ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

প্রশ্ন তুললেন ওসমান হাদির বোন মাসুমা

২০২৬ জুন ০৫ ১৯:১৯:০০
প্রশ্ন তুললেন ওসমান হাদির বোন মাসুমা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের-এর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘নোংরা প্রচারণা’ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে চিকিৎসা, মামলা এবং পরিবারের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন মাসুমা হাদি।

ফেসবুক পোস্টে মাসুমা হাদি দাবি করেন, ভাই শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঢাকায় এসে হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসার পুরো সময় হাসপাতালে অবস্থান করেন।

তার ভাষায়, হাসপাতালে থাকার পুরো সময় তিনি ভাইকে এক মুহূর্তের জন্যও ছেড়ে যাননি। এমন অবস্থায় মামলার বাদী হিসেবে অন্য কারও স্বাক্ষর নেওয়া হলো কেন—সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মাসুমা লিখেছেন, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিল এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে মামলার বাদী করা হলো, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

পোস্টে তিনি ওসমান হাদির ভাই ওমর ফারুকের মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, হামলার সময় দুই ভাই একই রিকশায় ছিলেন এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ওমরও মারাত্মক মানসিক আঘাতের মধ্যে ছিলেন।

তিনি লেখেন, আহত ভাইয়ের রক্ত ওমরের পোশাক, হাতঘড়ি ও শরীরে লেগে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মামলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় পরিবার ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাসুমা হাদির প্রশ্ন, পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা সবাই জানতেন ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল। ফলে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করেই কীভাবে জাবের মামলার বাদী হলেন, সেটি স্পষ্ট হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘জাবের যদি আমার এলাকার ছেলে না হতো, হয়তো এই প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু আমার ভাইয়ের জীবনের সঙ্গে আমি কতটা জড়িত, সেটা তার আশপাশের সবাই জানে। তাহলে আমার সঙ্গে আলোচনা না করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো কেন?’

মাসুমা হাদি তার পোস্টে ওসমান হাদির চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তার দাবি, ভাইকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার উদ্যোগ প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে নেন ওমর ফারুক। তিনি নিজ খরচে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন এবং প্রথমে সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ করলেও সেখান থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরে থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয় এবং সেখানে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

মাসুমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে সরকার বিষয়টি জানতে পেরে চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

দীর্ঘ পোস্টের শেষ অংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাসুমা হাদি।

তিনি বলেন, ভাইকে হারানোর শোক নিয়েই পরিবার এখনও সংগ্রাম করছে। এমন অবস্থায় না জেনে বা তথ্য যাচাই না করে পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো অনাকাঙ্ক্ষিত।

তার ভাষায়, ‘কেউ সম্মান না করলেও অন্তত অসম্মান করার আগে সত্যটা জানার চেষ্টা করা উচিত। একজন মানুষকে সম্মান করতে গিয়ে তার পরিবারকে নিয়ে মিথ্যাচার করার অধিকার কারও নেই।’

মাসুমা হাদির এই বক্তব্যের পর ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং সে সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মামলার বাদী হিসেবে নাম থাকা আব্দুল্লাহ আল জাবের কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মাসুমা হাদির প্রকাশ্য বক্তব্য মামলাটিকে ঘিরে বিদ্যমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে