ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

শপথের ৩ দিনের মাথায় মন্ত্রীর পদত্যাগ!

২০২৬ জুন ০৫ ১৫:৩৫:১৩
শপথের ৩ দিনের মাথায় মন্ত্রীর পদত্যাগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন সরকার গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় মন্ত্রিসভায় ভাঙনের ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে। নিজের প্রত্যাশিত দপ্তর না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও নবনিযুক্ত মন্ত্রী রামালিঙ্গা রেড্ডি।

শুক্রবার (৫ জুন) পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন রামালিঙ্গা রেড্ডি। কিন্তু দপ্তর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের জেরে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রেড্ডি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেই ডি কে শিবকুমার তার বাসায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তার দাবি, তিনি কখনও নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয় দাবি করেননি। বরং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাকে ওই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

রেড্ডির ভাষায়, ‘তিনি আমার কাছে দুবার একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমি সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু পরে সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

শুধু পদত্যাগ করেই ক্ষান্ত হননি রামালিঙ্গা রেড্ডি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন যদি তাকে তার পছন্দের বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তরও দেওয়া হয়, তবুও তিনি আর মন্ত্রিসভায় ফিরবেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করব। আমি কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকব, তবে আর মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি স্পষ্ট অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

সম্প্রতি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমার। সরকার গঠনের পরপরই মন্ত্রিসভা গঠন এবং দপ্তর বণ্টন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয় করার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

এরই মধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ নেতার পদত্যাগ নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে আসা সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরু ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। শহরটির অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দপ্তর।

ফলে রাজনৈতিকভাবে এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূত্রগুলোর দাবি, রামালিঙ্গা রেড্ডি শুরু থেকেই এই দপ্তর পাওয়ার বিষয়ে অনড় ছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী তার হাতে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তুলে দেন, যা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

রামালিঙ্গা রেড্ডির পদত্যাগকে কেবল ব্যক্তিগত অসন্তোষ হিসেবে না দেখে অনেকেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের শুরুতেই এমন ঘটনা সামনে আসা ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, দপ্তর পুনর্বণ্টন এবং দলীয় নেতৃত্বের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এই সংকট কীভাবে সামাল দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে