ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পরিচালকদের পদত্যাগে গভীর সংকটে ফারইস্ট ফাইন্যান্স

২০২৬ মে ১১ ২০:৫৮:৩১
পরিচালকদের পদত্যাগে গভীর সংকটে ফারইস্ট ফাইন্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিচালনা পর্ষদ থেকে একের পর এক সদস্য সরে দাঁড়ানোয় নতুন করে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। চার পরিচালক পদত্যাগ করায় প্রতিষ্ঠানটিতে তীব্র কোরাম সংকট তৈরি হয়েছে, যা বোর্ডের কার্যক্রম প্রায় অচল করে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তা ও দিকনির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে কোম্পানিটি। একইসঙ্গে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও (বিএসইসি)। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থাকে “অত্যন্ত সংকটাপন্ন” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসানে থাকা ফারইস্ট ফাইন্যান্স ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে যায়। পরবর্তীতে সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২০২১ সালের ২৯ মার্চ তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করে বিএসইসি। সেই পুনর্গঠিত বোর্ডে সাবেক আমলা, পেশাজীবী ও স্বতন্ত্র পরিচালক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে চার বছর না পেরোতেই সেই বোর্ডও কার্যত ভেঙে পড়েছে।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিএসইসি মনোনীত চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল মকবুল পদত্যাগ করেন। এর একদিন পর ১১ ডিসেম্বর দায়িত্ব ছাড়েন স্বতন্ত্র পরিচালক শেখ নাজমুল হক সৈকত। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ মে প্রতিষ্ঠানটিতে আরও বড় ধাক্কা লাগে, যখন স্বতন্ত্র পরিচালক এহসানুল আজিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন পদত্যাগ করেন। তাদের পদত্যাগপত্র ৫ মে কোম্পানির কাছে পৌঁছে। এসব পদত্যাগের পর বর্তমানে বোর্ডে মাত্র একজন পরিচালক রয়েছেন।

কোম্পানির সংঘবিধি অনুযায়ী, বোর্ড সভার কোরাম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম পাঁচজন পরিচালকের উপস্থিতি প্রয়োজন। ফলে এখন বোর্ড সভা আয়োজন কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন, আমানত ব্যবস্থাপনা, আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন, নিরীক্ষা কার্যক্রম এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বাস্তবায়নেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে ফারইস্ট ফাইন্যান্স জানিয়েছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপ না পেলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্বল আর্থিক অবস্থা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের ভাঙন কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬৫ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৫০ লাখ ২২ হাজার ৭৯৩টি।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৯.৭৫ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১২.৪১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৭.৮৫ শতাংশ শেয়ার।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে