ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বিএসইসির নতুন গাইডলাইনে গতি ফিরছে মিউচুয়াল ফান্ডে

২০২৬ মে ১১ ০০:২৫:৩০
বিএসইসির নতুন গাইডলাইনে গতি ফিরছে মিউচুয়াল ফান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে ওপেন-এন্ড বা বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই নির্দেশনার পর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস ১০ মে (সোমবার) মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহে এদিন তালিকাভুক্ত প্রায় সবকটি ফান্ডের দাম বেড়েছে এবং ডিএসইর শীর্ষ গেইনার বা দাম বাড়ার তালিকায় ১০টির মধ্যে ৮টি স্থানই দখল করেছে এই খাতের ফান্ডগুলো।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ক্লোজ-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তাদের প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) চেয়ে অনেক কম দামে বা ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছিল। নতুন নীতিমালার ফলে এখন এসব ফান্ডে তারল্য বাড়বে এবং বাজার মূল্যের সাথে সম্পদ মূল্যের ব্যবধান কমে আসবে—এমন প্রত্যাশাতেই বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়েছেন।

বিএসইসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের বাজার দর টানা ছয় মাস তার এনএভি বা অভিহিত মূল্যের চেয়ে ২৫ শতাংশের বেশি নিচে থাকে, তবে ট্রাস্টিকে ইউনিটহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা (SGM) ডাকতে হবে। সেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ইউনিটহোল্ডাররা সিদ্ধান্ত নেবেন যে ফান্ডটি কি ওপেন-এন্ডে রূপান্তরিত হবে, নাকি অবসায়ন (Liquidation) করা হবে। অন্তত ৭৫ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারের সম্মতি থাকলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এই বিষয়ে শেয়ারনিউজে শনিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার লিঙ্ক হলো-

তথ্যমতে, বাজারের বর্তমান ৩৪টি ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের মধ্যে প্রায় ২২টি এই নীতিমালার আওতায় পড়তে পারে। আগামী ১২ মে এই ছয় মাসের সময়সীমা পূর্ণ হচ্ছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহেই অনেক ফান্ডের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে।

আজকের লেনদেনে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অভাবনীয় পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ১ম এবং ট্রাস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড—সবগুলোর দামই ১০ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। এছাড়া এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১, ইবিএল এনআরবি এবং এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ডও ৯ শতাংশের বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএসইসির নির্দেশনায় রূপান্তর প্রক্রিয়ার খরচও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ফান্ডের মোট আকারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ খরচ করা যাবে। এর মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি পাবে ০.৫০ শতাংশ এবং ট্রাস্টি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবে। এছাড়া বাজার কারসাজি রোধে ভোটের জন্য রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর ফান্ডের লেনদেন স্থগিত রাখার বিধানও রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কারের ফলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সহজে তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ লিকুইডেট বা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফান্ডের দীর্ঘদিনের অদক্ষতা দূর করে বাজারে গতিশীলতা আনা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে