ঢাকা, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

একসঙ্গে পদত্যাগ করবেন বিজয়ের ১০৭ বিধায়ক!

২০২৬ মে ০৮ ১০:৪৫:৪৯
একসঙ্গে পদত্যাগ করবেন বিজয়ের ১০৭ বিধায়ক!

নিজস্ব প্রতিবেদক: তামিলনাড়ুর সরকার গঠন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ডিএমকে বা এআইএডিএমকে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে তাদের নির্বাচিত ১০৭ জন বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর টিভিকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে দুই দল একজোট হয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে। এতে সর্বাধিক আসন পাওয়া দল হিসেবে টিভিকেকে বাইরে রাখা হতে পারে বলে মনে করছে তারা।

টিভিকের দাবি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার তাদেরই। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাননি। তিনি জানান, টিভিকে এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। বর্তমানে টিভিকের আসন সংখ্যা ১০৭। কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন থাকলেও দলটি এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে রয়েছে। এ অবস্থায় বাম দল ও ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন আদায়ে আলোচনা চালাচ্ছে তারা। পাশাপাশি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন রয়েছে, বিকল্প সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে ডিএমকে। দলীয় বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে দলীয় প্রধান এম কে স্ট্যালিনকে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

ডিএমকে জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য নতুন নির্বাচন এড়ানো, স্থিতিশীল সরকার গঠন এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ক্ষমতার বাইরে রাখা। পরিস্থিতিকে ‘জটিল সংকট’ উল্লেখ করে দলটি ১০ মে পর্যন্ত সব বিধায়ককে চেন্নাইয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা চলছে। সেখানে এআইএডিএমকের নেতৃত্বে সরকার গঠন এবং বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে ডিএমকের ভেতরেও এ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। উদয়নিধি স্ট্যালিনপন্থি তরুণ নেতাদের আশঙ্কা, বিজয় ক্ষমতায় এলে তিনি এম জি রামচন্দ্রনের মতো দীর্ঘ সময়ের জন্য রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

অন্যদিকে প্রবীণ নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল একসঙ্গে সরকার গঠন করলে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

এআইএডিএমকে আপাতত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ অবস্থানে রয়েছে। দলটির একটি অংশ টিভিকের সঙ্গে জোটে আগ্রহী হলেও শীর্ষ নেতৃত্ব তা নাকচ করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পলানিস্বামীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪৫ জনের বেশি বিধায়ক অংশ নেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, টিভিকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে কোনো সমঝোতা নেই এবং এখন বিধায়ক ভাঙানোর প্রশ্নও আসে না। দলীয় বিধায়কদের আরও দুই দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।এদিকে গভর্নরের অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিভিকের সম্ভাব্য মিত্ররাও।

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) তামিলনাড়ু শাখা বলেছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ বিধানসভাতেই হওয়া উচিত।

ভিসিকে নেতা থোল থিরুমাভালাভান বলেছেন, ‘গভর্নর টিভিকের কাছে ১১৮ জনের তালিকা চাইতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের সুযোগ দিয়ে পরে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাই করা উচিত।’

অন্যদিকে ডিএমকেও গভর্নরের সিদ্ধান্তকে ‘জনরায়ের প্রতি অসম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অভিনেতা কমল হাসানও বিজয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে