ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

২০২৬ মে ০৭ ১৯:৪৯:১৩
ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি কথিত বিমান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলাটি আদালত গ্রহণ করেনি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলাটি গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উপাদান ও আইনগত ভিত্তি যথেষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

মামলার আবেদন করেছিলেন নিহত এক শিক্ষার্থীর বাবা উসাইমং মারমা। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুরে একটি প্রশিক্ষণ বিমান (এফ-৭ বিজিআই) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে বলে দাবি করা হয়—বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী ৩৫ জন নিহত এবং আরও বহু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গুরুতর আহত বা পঙ্গু হন।

মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, বিমানটি উড্ডয়নের আগে প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং সেটি সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই উড্ডয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরাসরি দায়িত্বে থাকা সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা এবং জরুরি বহির্গমন পথ পর্যাপ্ত না থাকার অভিযোগও আনা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, তৎকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এছাড়া মামলায় আসামি করা হয়েছিল আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ ও শিক্ষা খাতের কয়েকজন উপদেষ্টা, বিমান বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্কুল কর্তৃপক্ষ, রাজউকের চেয়ারম্যানসহ মোট ১৬ জনকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং পরে আদেশ সংরক্ষণে রাখেন। পরে বিকেলে আদালত জানান, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যেখানে ফৌজদারি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। ফলে আবেদনটি খারিজ করা হয়।

এই আদেশের ফলে আপাতত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা শুরু হচ্ছে না। তবে আইনগতভাবে বাদীপক্ষ চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে বলে আইনজীবী মহলে আলোচনা রয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ মামলায় উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক ব্যক্তিদের নাম যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে