×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

১০–১১% রিটার্ন! নতুন বিকল্পে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ মে ০৫ ১১:২১:৫২
১০–১১% রিটার্ন! নতুন বিকল্পে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোকে ঘিরে সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন কাঠামো গঠনের পর অনেক আমানতকারীর মধ্যে টাকা জমা রাখা, উত্তোলন এবং ভবিষ্যতে অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের বিকল্প খুঁজছেন অনেক গ্রাহক, যেখানে ঝুঁকি কম, মুনাফা গ্রহণযোগ্য এবং লেনদেন সহজ।

এই ব্যাংক সংকটকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের আস্থায় টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন—ব্যাংকে রাখা টাকা আদৌ কতটা নিরাপদ, প্রয়োজনে সহজে উত্তোলন করা যাবে কি না এবং মুনাফার স্থিতিশীলতা কেমন থাকবে। ফলে প্রচলিত এফডিআর বা সঞ্চয়ী হিসাবের বাইরে বিকল্প বিনিয়োগের দিকে ঝোঁক বাড়ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড। এগুলো মূলত সরকারের ঋণপত্র, যেখানে বিনিয়োগ করলে রাষ্ট্র সরাসরি দায় বহন করে। ফলে এখানে অর্থ হারানোর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে খুবই কম বলে মনে করা হয়। ট্রেজারি বিল সাধারণত স্বল্পমেয়াদী—৯১, ১৮২ বা ৩৬৪ দিনের জন্য ইস্যু করা হয়। অন্যদিকে ট্রেজারি বন্ড দীর্ঘমেয়াদী, যা ২ বছর থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং এতে সাধারণত ছয় মাস পরপর মুনাফা পাওয়া যায়, যা নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

বর্তমানে এসব সরকারি সিকিউরিটিজে মুনাফার হারও তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয়। স্বল্পমেয়াদী বিলগুলোতে প্রায় ১০ থেকে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী বন্ডে প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এটি সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক এফডিআরের সমপর্যায়ের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে হলে সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। প্রাইমারি ডিলার (পিডি) ব্যাংকগুলো এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো নিলামে অংশ নিয়ে পরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে এসব পণ্য সরবরাহ করে। ন্যূনতম এক লাখ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে এই খাতে অংশ নেওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির আগেই সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রির সুযোগ থাকায় তারল্যও বজায় থাকে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত সঞ্চয়পত্র এখনও অনেকের প্রথম পছন্দ। এতে সাধারণত ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায় এবং সরকারি গ্যারান্টির কারণে মূলধন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। নিয়মিত মুনাফা প্রদান, সহজ প্রক্রিয়া এবং কর সুবিধার কারণে এটি এখনও জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যম।

ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, তারল্য এবং সুশাসন। তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি কম থাকে এবং লেনদেনও সহজ হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—সব টাকা এক জায়গায় না রেখে বিনিয়োগ বৈচিত্র্য করা। অর্থাৎ কিছু টাকা ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে, কিছু এফডিআর বা ডিপোজিটে এবং বড় অংশ নিরাপদ সরকারি বন্ড বা সঞ্চয়পত্রে রাখা যেতে পারে। এতে ঝুঁকি কমার পাশাপাশি তারল্য ও আয়—দুটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতের বর্তমান অনিশ্চয়তার সময়ে আবেগ নয়, বরং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র এখন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক নির্বাচনেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে