ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যে পদ্ধতিতে যানজটমুক্ত হবে ঢাকা

২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১০:৫৯:৪৭
যে পদ্ধতিতে যানজটমুক্ত হবে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকা-র দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে সরকার ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল আর থাকবে না, বরং পুরো ব্যবস্থাটি বাধাহীন এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম দিককে সংযুক্ত করে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে একটি নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে গাড়িগুলো একবার রাস্তায় প্রবেশ করলে কোনো সিগন্যাল বা দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

বর্তমানে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরে যানবাহনের গড় গতি মাত্র ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটার, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৯০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি অপচয় ও সময় নষ্ট মিলিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকার নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনায় নতুন ওভারপাস, আন্ডারপাস, ইন্টারচেঞ্জ, ইউ-লুপ ও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের কথা রয়েছে। মোট ৩৭টি নতুন কাঠামো তৈরি করতে হবে এবং বিদ্যমানসহ মোট অবকাঠামো ব্যবস্থার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪৩টিতে। এই প্রকল্পে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২,৬৭২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনার আওতায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন মিরপুর, মহাখালী, গুলশান, বনানী, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, আগারগাঁও, তেজগাঁওসহ বিভিন্ন ব্যস্ত মোড়ে বড় পরিবর্তন আনা হবে। এসব এলাকায় নতুন ইন্টারচেঞ্জ ও সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে যান চলাচল সহজ হয়।

পরিকল্পনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে অভ্যন্তরীণ রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে, দ্বিতীয় ধাপে ১০৫ কিলোমিটার মূল রুটকে সিগন্যালমুক্ত করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরানো, ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ঘনবসতি, অব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল ও সমন্বয়ের অভাব থাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অতীতেও বিভিন্ন ট্রাফিক আধুনিকায়ন প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ায় নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং কঠোর ব্যবস্থাপনার ওপর।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে