ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

সংকটকালেও বিমানের হজে বিলাসিতা!

২০২৬ এপ্রিল ১৩ ২৩:১৮:১৫
সংকটকালেও বিমানের হজে বিলাসিতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ায় ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ সফর স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হজ কার্যক্রম পরিচালনার নামে বড় একটি প্রতিনিধি দল সৌদি আরব পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বিদেশ সফর সীমিত রাখার কথা জানানো হলেও, কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভিন্ন অজুহাতে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উদ্যোগটি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল সংস্থাটির ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত করে একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। তারা পবিত্র হজ ২০২৬ উপলক্ষে সৌদি আরবে গিয়ে অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করবেন। অথচ গত বছর হজ মৌসুমে বিমানের পক্ষ থেকে কাউকে পাঠানো হয়নি। এবারের এই বহরের পেছনে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে, যা অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখছেন।

বিমানের জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রি ও পোস্ট হজ অপারেশনাল দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচিত করা হয়েছে। হজ ফ্লাইট শুরুর চার দিন আগে তারা জেদ্দায় পৌঁছাবেন এবং মোট ৩৭ দিন সেখানে অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে দায়িত্ব শেষে পরবর্তী ফ্লাইটে দেশে ফেরার সুযোগ থাকবে। হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক তদারকি করবেন রিজিওনাল ম্যানেজার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

তালিকাভুক্তদের মধ্যে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন, যার মধ্যে প্রশাসনিক, কারিগরি এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিভাগের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। এমনকি তালিকায় একজন হিন্দু কর্মকর্তার নামও রয়েছে, যিনি হাজিদের সেবার জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। কৃচ্ছ্রসাধনের এই সময়ে এত বড় বহর পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংস্থার ভেতরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিমান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবারের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে এত বড় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গত বছর যেখানে কাউকে পাঠানো হয়নি, সেখানে এবার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে বহর পাঠানো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

হজ বহরে অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডেপুটি ম্যানেজার (কমার্শিয়াল) তামান্না আলী তাবাসসুম, ফয়সল কবির, বাদশাহ ফাহাদ, মো. আব্দুল্লাহ, মহিদুল ইসলাম শান্ত, মাহফুজ আলী; কমার্শিয়াল সুপারভাইজার আল আমিন মিয়া, তামিজ উদ্দিন সরকার, রেজাউর রহমান, রিপন আলী, ফারহানা হুসাইন, শাহিনুর ইসলাম, মো. মাহসিন, মহিউদ্দিন আহমেদ; জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার ইউসুফ ইকরাম; গ্রাহকসেবা পরিচালক বদরুল হাসান লিটন, সাজেদা বেগম; সহকারী ব্যবস্থাপক জিএস সায়িদা আয়েশা সুলতানা; গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার শামসুদ্দিন আহমেদ বারী, হুমায়ুন কবির, আবদুস সালাম, শফিকুল ইসলাম খান, এএম আশরাফুল আলম চৌধুরী, সাইদুর রহমান, আলিকুজ্জামান ভুঁইয়া; গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার সান্তু হাওলাদার; সিনিয়র সহকারী অপারেশন মোহাম্মদ শামসুল হুদা; জুনিয়র অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন খান, মনজুর মোরশেদ, হেলাল উদ্দিন, জাকিউল আলম; ডেপুটি ম্যানেজার অপারেশনস জান্নাতুল ফেরদৌস; জুনিয়র অপারেশন অফিসার কানিজ ফাতেমা, জয়নাল আবেদীন, দেবাশিষ কুমার কুন্ডু; উপ-ব্যবস্থাপক সারওয়ার্দী বিশ্বাস, শরিফুল ইসলাম, আবিদুল মুহাইমিন; জুনিয়র অফিসার (হিসাব) গোলাম মোস্তফা এবং সিস্টেম বিশ্লেষক (প্রোগ্রামার) শাহীর রহমান।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে