ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

জ্বালানি বাজারে স্বস্তি: আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

২০২৬ মার্চ ২২ ০৬:৪৯:২৫
জ্বালানি বাজারে স্বস্তি: আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ রয়েছে, যা শিগগিরই বাজারে আসতে পারে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে শনিবার জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল সংরক্ষিত রয়েছে।

অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে জানায়, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান।

এশিয়ার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা প্রায় ৬০ শতাংশ। তবে হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ায় এই অঞ্চলের তেল শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে এবং রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রিফাইনারিগুলো উৎপাদন কমাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। ফলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। গত বছর দেশটির স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।

চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ইরানি তেলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা ছিল। কেপলার জানায়, নিষেধাজ্ঞার সুযোগে অন্য দেশগুলো সরে যাওয়ায় চীন এই তেল বেশি পরিমাণে কিনতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর ভারত রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছিল। তবে বর্তমানে কম মজুদের কারণে ভারত আবার ইরানি তেলের দিকে ঝুঁকছে।

ভারতের তিনটি শোধনাগারের সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। তবে সরকারের নির্দেশনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

তবে ইরানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে পরিবহন হওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এছাড়া, পূর্বে কিছু ক্রেতা সরাসরি ইরানি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালের শেষ দিকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে তেলের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে