ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

একাধিক ও গায়েবানা জানাজার বিধান

২০২৬ মার্চ ০২ ১৬:০৬:১৫
একাধিক ও গায়েবানা জানাজার বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে গায়েবানা জানাজা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে জানতে চাইছেন—মূল জানাজার আগে গায়েবানা জানাজা আদায় করা শরিয়তসম্মত কি না। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, গায়েবানা জানাজার বিধান আদৌ আছে কি না।

বিষয়টি নিয়ে ইসলামী গবেষণা গ্রন্থ ও ফতোয়ার আলোকে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হলো।বাংলাদেশের ইসলামী গবেষণা সাময়িকী মাসিক আল কাউসার–এ বলা হয়েছে, জানাজার নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য মৃতদেহ সামনে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। অনুপস্থিত মৃতদেহের ওপর গায়েবানা জানাজা আদায়ের বিধান সাধারণভাবে প্রমাণিত নয়।

নবীজি (সা.)–এর জীবদ্দশায় বহু সাহাবি মদিনার বাইরে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রে তাদের গায়েবানা জানাজা আদায়ের ঘটনা পাওয়া যায় না। অথচ তিনি সাহাবায়ে কেরামের জানাজায় শরিক হতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেছেন,“তোমাদের কেউ মারা গেলে আমাকে জানাবে। কেননা আমার জানাজা নামাজ মৃতের জন্য রহমত।” (সহিহ ইবনে হিব্বান)

একইভাবে খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগেও বিভিন্ন স্থানে মুসলমান শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাদের গায়েবানা জানাজার নিয়মিত চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায় না। যদি এটি সুন্নাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো, তবে সাহাবিগণ তা অনুসরণ করতেন।

প্রখ্যাত আলেম তাঁর গ্রন্থ যাদুল মাআদ–এ উল্লেখ করেন, অনুপস্থিত মৃতদেহের ওপর গায়েবানা জানাজা পড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সাধারণ সুন্নাহ ছিল না। বহু মুসলমান দূরবর্তী স্থানে ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু তিনি সবার গায়েবানা জানাজা পড়েননি।

গায়েবানা জানাজা বৈধ প্রমাণ করতে কেউ কেউ হাবশার বাদশাহ নাজাশী (রা.)–এর জানাজার ঘটনা উল্লেখ করেন। তবে বহু মুহাদ্দিসের মতে, এটি ছিল বিশেষ একটি ঘটনা।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বললেন—“তোমাদের ভাই নাজাশী ইন্তেকাল করেছেন, তোমরা তার জানাজা আদায় করো।”বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলাম, এবং আমাদের মনে হচ্ছিল মৃতদেহ যেন তাঁর সামনেই উপস্থিত।

অনেক আলেমের মতে, নাজাশীর মৃত্যু হয়েছিল এমন স্থানে যেখানে তার জানাজা আদায়ের মতো মুসলমান ছিল না। তাই বিশেষ প্রয়োজনেই এ জানাজা আদায় করা হয়েছিল।

কিছু আলেমের মতে, গায়েবানা জানাজা জায়েজ। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.)–এর একটি মত অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি অন্য শহরে থাকলে গায়েবানা জানাজা আদায় করা যেতে পারে। তবে একই শহরে থাকলে মৃতদেহ উপস্থিত করে জানাজা পড়তে হবে।

আবার ইমাম আহমদের আরেক বর্ণনা অনুযায়ী, যদি মৃত ব্যক্তির জানাজা কোথাও আদায় না হয়ে থাকে, তাহলে গায়েবানা জানাজা জায়েজ হবে। কিন্তু যদি জানাজা ইতিমধ্যে আদায় হয়ে যায়, তাহলে পুনরায় গায়েবানা জানাজা পড়া জায়েজ নয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে