ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

শৈশবের বয়সে কোরআনের মহাসাগর! তাক লাগাল লাবিব ও উসাইদ

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১৮:২৪:১০
শৈশবের বয়সে কোরআনের মহাসাগর! তাক লাগাল লাবিব ও উসাইদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র ১১ বছর বয়স। শৈশবের স্বাভাবিক চপলতা আর দুরন্তপনা থাকলেও তাদের হৃদয়ে ধারণ করা এক মহাগ্রন্থ—পবিত্র আল কোরআন। কোনো ধরনের ভুল ছাড়াই, এক বৈঠকে সম্পূর্ণ ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ শোনিয়ে দেশজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে দুই খুদে হাফেজ লাবিব আব্দুল্লাহ ও উসাইদ মুহিব্বুল্লাহ।

লাবিব আব্দুল্লাহ নরসিংদীর বাসিন্দা। সে সাধারণ শিক্ষার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং রাজধানীর ডেমরার ডগাইর এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাতু আহমাদের হিফজ শুনানি বিভাগের ছাত্র। অন্যদিকে উসাইদ মুহিব্বুল্লাহ চাঁদপুরের সন্তান। তার বাবা কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন ইমাম। উসাইদ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একই প্রতিষ্ঠানের হিফজ বিভাগের গর্ব।

এক বৈঠকে নির্ভুলভাবে পুরো কোরআন তিলাওয়াত করার এই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য আয়োজন করে বিশেষ সংবর্ধনা। পুরস্কার হিসেবে মাদরাসার পরিচালকের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমান ভ্রমণের সুযোগ।

আকাশপথে ভ্রমণের সময়ও দুই খুদে হাফেজ ছড়িয়ে দেন মুগ্ধতা। বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুরা তাদের এই বিরল কৃতিত্বে অভিভূত হয়ে অভিনন্দন জানান। বর্তমানে তারা কক্সবাজারে অবস্থান করে এই স্মরণীয় অর্জনের আনন্দ উপভোগ করছে।

লাবিব ও উসাইদ যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে, সেই ‘মাদরাসাতু আহমাদ’ শুধু হাফেজ তৈরি নয়, বরং দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এখানে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা, কিতাবখানা ও হিফজ বিভাগের পাশাপাশি রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে কম্পিউটার বিভাগ, যেখানে ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশনের মতো আধুনিক দক্ষতা শেখানো হয়। প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে স্পোকেন ইংলিশ ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক।

মাদরাসাতু আহমাদের পরিচালক যুবায়ের আহমাদ বলেন,“আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের এই দুই ছাত্র এক বৈঠকে ভুলহীনভাবে কোরআন শুনিয়ে প্রমাণ করেছে—মেধা, পরিশ্রম ও সঠিক পরিবেশ থাকলে অসম্ভব কিছু নেই। আমরা তাদের এই অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিমান ভ্রমণ ও কক্সবাজার সফরের ব্যবস্থা করেছি, যাতে অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হয়।”

কোরআনের আলো বুকে ধারণ করে আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ হয়ে লাবিব ও উসাইদ ভবিষ্যতে আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে