ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

রেড অ্যালার্ট, নির্বাচন ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১৭:২৫:৫৪
রেড অ্যালার্ট, নির্বাচন ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ প্রস্তুতির আওতায় আনা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সারাদেশের সব হাসপাতালে পাঠানো এক জরুরি নির্দেশনায় এ সতর্কতার কথা জানানো হয়। নির্দেশনাটি স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় দিন নির্বাচনকালীন সময় হিসেবে বিবেচনা করে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। এ সময় চিকিৎসা সেবায় কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো যাবে না।

নির্বাচনকালীন সময়ে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সিটি করপোরেশনে থাকবে ৬টি মেডিকেল টিম, বিভাগীয় পর্যায়ে ৪টি, জেলা পর্যায়ে ৩টি, উপজেলা পর্যায়ে ২টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে অন্তত ১টি মেডিকেল টিম। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা স্বাস্থ্য প্রশাসক জনবল ও প্রয়োজন অনুযায়ী টিমের সদস্য নির্ধারণ করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ বাড়তে পারে। সে কারণে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একইসঙ্গে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জরুরি রোগী পরিবহনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। কোনো কারণে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ছুটিতে থাকলে যোগ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর জন্যও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে জরুরি বিভাগ চালু রাখতে হবে। কোনো রোগী রেফার করার প্রয়োজন হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে রেফার করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে লজিস্টিক, অ্যাম্বুলেন্স ও জনবল সহায়তা দিতে হবে।

এছাড়া নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। জরুরি বিভাগ, ভর্তি বিভাগ, ল্যাব, ক্যাথল্যাব, ডায়ালাইসিস সেন্টার, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সেন্টার স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে হবে।

একই সঙ্গে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে জনসমাগম ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন চলাকালে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে