ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
Sharenews24

আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার কারসাজিতে ১১.১০ কোটি টাকা জরিমানা

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ২৩:৪১:০৩
আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার কারসাজিতে ১১.১০ কোটি টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে মারাত্মক কারসাজির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিস্তারিত তদন্ত ও শুনানির পর কমিশন এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে বলে বিএসইসি সূ্ত্রে জানা গেছে।

বিএসইসি দেখতে পেয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বা ভুয়া চাহিদা তৈরি করে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল, যা শেয়ারবাজারের নিয়ম-কানুনের সরাসরি লঙ্ঘন।

কারসাজির তদন্তটি চলে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। এই সময়ে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দাম ৭৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৬ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছে গিয়েছিল। অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধি বিএসইসি'র নজরে আসে এবং কমিশন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। উল্লেখ্য, বর্তমানে শেয়ারটির দাম কমে ৪৬ টাকায় নেমে এসেছে।

বিএসইসি'র তদন্তে উঠে আসে, ফারুক এন্টারপ্রাইজ, রাইয়ান ট্রেডিং এবং ইসলাম এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে 'সার্কুলার ট্রেডিং' -এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে উচ্চ মূল্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে বাজারে ভুয়া সংকেত দেয়। তাদের এই কার্যক্রম শেয়ারের স্বাভাবিক চাহিদা-যোগানের গতিশীলতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীদের মনে প্রভাব ফেলেছিল।

এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফারুক এন্টারপ্রাইজ কারসাজিমূলক কার্যক্রমে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল এবং এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শুনানিতে ফারুক এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজী মেহেদী আরাফাত লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা জানায়, তাদের সমস্ত লেনদেন বৈধ বিনিয়োগ কৌশল এবং প্রচলিত বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল এবং কোনো লেনদেনই কৃত্রিম চাহিদা তৈরি বা অন্য বিনিয়োগকারীকে ভুল পথে চালিত করেনি।

রাইয়ান ট্রেডিং ৩ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করায় এটিকে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কোম্পানিটি ব্যাখ্যা দেয় যে, তারা ফারুক এন্টারপ্রাইজ, ইসলাম এন্টারপ্রাইজ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজস করেনি এবং ১০ শতাংশ শেয়ারধারণের সীমা লঙ্ঘন অনিচ্ছাকৃত ছিল।

বিএসইসি দেখতে পায়, ইসলাম এন্টারপ্রাইজ এই কারসাজিতে সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করায়, এটিকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ইসলাম এন্টারপ্রাইজের পক্ষে রুবেল ভূঁইয়া শুনানিতে কৃত্রিম লেনদেন বা ইচ্ছাকৃত মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সমস্ত লেনদেন বৈধ কৌশল ও বাজার পরিস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছিল এবং তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেনি। তারা জোর দিয়ে বলে যে, সমস্ত বিও অ্যাকাউন্ট বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কোনো স্ব-লেনদেন বা বাজার কারসাজি ঘটেনি।

সর্বশেষ শেয়ারধারণের তথ্য অনুযায়ী, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিহের ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার স্পন্সর ও পরিচালকদের কাছে, ১০.১৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ৫৯.৬২ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কারসাজিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে