ঢাকা, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
Sharenews24

ব্যাংকের ভল্ট ও লকারের পার্থক্য, আনলক হয় যেভাবে

২০২৫ নভেম্বর ২৯ ১৮:৪৪:০৫
ব্যাংকের ভল্ট ও লকারের পার্থক্য, আনলক হয় যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : অগ্রণী ব্যাংকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দুটি লকার থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ভল্ট ও লকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—লকার ও ভল্টের মৌলিক পার্থক্য কী, গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে ব্যাংক কীভাবে লকার খুলতে পারে, এবং এসব প্রক্রিয়া কি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে?

ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, ভল্ট হল ব্যাংকের নিজস্ব কেন্দ্রীয় কোষাগার, যেখানে ব্যাংক তাদের নগদ অর্থ, মূল্যবান দলিল, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ব্যাংকের নিজস্ব সম্পদ নিরাপদে রাখে। এটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল।

তার বিপরীতে লকার হলো ভল্টের ভেতরে থাকা পৃথক ছোট নিরাপত্তা বক্স, যা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। গ্রাহকরা স্বর্ণ, গয়নাগাটি, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী এসব লকারে রাখেন।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন এবং ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নীতিমালার মাধ্যমে লকার ব্যবহারের নিয়ম-কানুন নির্ধারিত থাকে। লকার সাধারণত ভল্টের ভেতরে আলাদা ঘরে স্থাপন করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এসব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরাও রাখা হয় না।

ব্যাংক লকার খোলার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিরাপদ ও সীমাবদ্ধ। অগ্রণী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল বাশার জানান—লকার খোলার জন্য দুটি চাবি প্রয়োজন হয়:1️⃣ ব্যাংকের কাছে থাকা মাস্টার কি 2️⃣ গ্রাহকের কাছে থাকা ব্যক্তিগত কি

দুই চাবি একসঙ্গে ব্যবহার না করলে লকার খোলা সম্ভব নয়।লকার ব্যবহারকালে গ্রাহক ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত থাকতে পারেন না।প্রতি প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় লকার লগবুকে নথিভুক্ত করা হয়।

লকার ভাড়ার সময় গ্রাহকদের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয় এবং নমিনি নিয়োগের সুযোগ থাকে।সাধারণ পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকের উপস্থিতি ছাড়া লকার আনলক করার অনুমতি পান না।

তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে—বিশেষ করে আদালতের নির্দেশে ব্যাংক লকার খুলতে বাধ্য। এ নিয়ম বহুদিন ধরেই প্রচলিত এবং এর আগেও বিভিন্ন ব্যক্তির লকার আদালতের আদেশে খুলে তদন্ত সংস্থাগুলো সামগ্রী জব্দ করেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের লকার খুলে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করার প্রক্রিয়াতেও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা। দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন—“আদালতের অনুমতি ছাড়া লকার খোলার প্রশ্নই আসে না। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, এনবিআর ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লকারগুলি খোলা হয়।”

তিনি আরও জানান, তদন্তের আনুসঙ্গিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই সময় বেশি লেগেছে, তবে সবকিছু সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন—তদন্তাধীন একটি ফাইল এমনভাবে প্রকাশ করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ঘটনার সময় নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোর্শেদ বলেন—“আদালতের নির্দেশে লকার খোলা হলে সেখানে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।তবে তদন্তাধীন বিষয়ের তথ্য গণমাধ্যমে এত বড় করে প্রচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার হতে পারে।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—যখন অ্যাকাউন্ট ও লকার দেড় বছর আগে জব্দ করা হয়েছিল, তখন এতদিন পর হঠাৎই এখন লকার খোলার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো।

এর আগেও এমন উদাহরণ রয়েছে শুধু শেখ হাসিনার পরিবারই নয়;বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর লকার, অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের লকার, আদালতের নির্দেশে অতীতেও খোলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সবসময় বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণে কাজ করা হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে