ঢাকা, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
Sharenews24

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের বিরুদ্ধে ৪৭ ব্রিটিশ এমপিকে অস্বাভাবিক বার্তা

২০২৫ মার্চ ২৪ ২৩:০৪:২১
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের বিরুদ্ধে ৪৭ ব্রিটিশ এমপিকে অস্বাভাবিক বার্তা

বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে ‘অপদস্থ’ করতে পরিকল্পিতভাবে ‘ভুয়া তথ্য’ প্রচারিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন একদল ব্রিটিশ এমপি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত বছরের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থের অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পাচার করা কয়েক বিলিয়ন ডলার দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আহসান মনসুর ব্রিটিশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা চান। তিনি মনে করছেন, পাচার হওয়া কিছু সম্পদ যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি ক্রয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ভাগনি এবং ব্রিটেনের বর্তমান লেবার সরকারের সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী, তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সহযোগীদের কাছ থেকে সম্পদ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠছে।

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। চলতি বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ফাইল করে। এসব বিতর্কের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন, যদিও সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আহসান এইচ মনসুর সম্পর্কে প্রকাশিত একটি নিবন্ধসহ সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্রিটিশ এমপিরা একটি ই-মেইল পেয়েছেন। এমপিরা উদ্বিগ্ন যে, এই ভুয়া নিবন্ধগুলো পাচার অর্থ উদ্ধারে ঢাকার চেষ্টায় লন্ডনের সহায়তাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এটি আহসান মনসুরের বিরুদ্ধে একটি উদ্দেশ্যমূলক কুৎসার প্রচারণা।

সোমবার (২৪ মার্চ) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৪৭ সদস্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) অন রেসপনসিবল ট্যাক্স অ্যান্ড করাপশনের সদস্যদের সঙ্গে আহসান মনসুরের বৈঠক হওয়ার কথা। ই-মেইলটি গ্রুপের সদস্যদের হাতে আসার পর তারা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ই-মেইলের প্রেরক নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং এমপিদের কাছে ‘ইন্টারন্যাশনাল পলিসি ডাইজেস্ট’ নামের একটি ওয়েবসাইটের লিংক পাঠিয়েছে, যাতে আহসান মনসুরের পরিবারের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান যাচাই করে দেখেছে, নিবন্ধগুলোর লেখকদের পরিচয় সন্দেহজনক এবং তারা অনলাইনে অন্য ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করেছেন, যা তাদের প্রকৃত পরিচয় নির্দেশ করে না।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, তিনি মনে করেন, এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তাধীন ব্যক্তিরা তার খ্যাতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে।

এপিপিজির সদস্য এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুপা হক জানান, তিনি একটি ব্রিটিশ জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান থেকে একটি আলাদা ই-মেইল পেয়েছেন, যেখানে আহসান মনসুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

রুপা হক বলেন, এমন ই-মেইল পাওয়া খুব অস্বাভাবিক এবং এটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে হত্যা প্রত্যাশার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

জানা গেছে, এপিপিজির সদস্যরা এই ই-মেইলগুলো পার্লামেন্টারি সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং সংসদীয় পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছেন এবং অপতথ্যের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

আলমগীর/

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে