×
ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

দেশে ফেরা নিয়ে অনড় শেখ হাসিনা, যা বলছে সরকার

২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১৬:৪৪:৫২
দেশে ফেরা নিয়ে অনড় শেখ হাসিনা, যা বলছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো মূল্যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি জেনেও তিনি স্বদেশে ফিরতে চান। এদিকে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতায় জড়ো হতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা বহু শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতাকর্মী।

বার্তা সংস্থা এপি-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন,“মৃত্যুই যদি আমার নিয়তি হয়, তবে আমি আমার নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মাঝে মরতে চাই। তাই আমি বাংলাদেশে ফিরে যাব, এই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।”

তিনি জানান, দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত। তবে তিনি কোনো বিদেশি শক্তির কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় বা নিরাপত্তার সহায়তা চাননি। যেকোনো আইনি বা রাজনৈতিক পরিণতি মেনে নেওয়ার জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত।

শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, ইতিমধ্যে তিনি তৃণমূলের ইউনিয়ন পর্যায়ের শত শত নেতাকর্মীর সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন। বাকি দিনগুলোতে দেশজুড়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় শেষ করেই দেশে ফেরার চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করবেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা কলকাতায় অবস্থান নিচ্ছেন।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি: দলীয় সূত্রমতে, চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে যুক্তরাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিকদের যুক্ত করে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ও কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন।

শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়: বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত সাবেক মন্ত্রী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ একাধিক নেতা লন্ডন, বেলজিয়াম ও থাইল্যান্ডে অবস্থানরত সহকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

সহযোগী সংগঠনের তৎপরতা: যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানও কলকাতায় দলীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ ট্রাভেল পাস বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈধ নথিপত্র ছাড়া তিনি কীভাবে দেশে প্রবেশ করবেন—তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, সরকার ট্রাভেল পাস না দিলেও তাঁদের কাছে দেশে ফেরার বিকল্প পথ ও ব্যবস্থা রয়েছে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সাবেক এমপি শামীম ওসমান দাবি করেছেন, কয়েক হাজার নেতাকর্মী একসঙ্গে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি যেদিন ফিরবেন, সেদিন সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে নেমে আসার গোপন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল, বাসে আগুন, পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং পোশাক শিল্পে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টার পেছনে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে অভিযোগ উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অনুকূলে এনে শেখ হাসিনার ফিরে আসার একটি মাঠ তৈরির চেষ্টা হতে পারে এটি। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো চরম শাস্তির ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সত্যিই ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন, নাকি এসব বক্তব্য কেবলই রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে