×
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ, সাড়া দিচ্ছে না দিল্লি

২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১৯:০৮:২১
ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ, সাড়া দিচ্ছে না দিল্লি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১২ ডিসেম্বর। ১৯৯৬ সালের এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চুক্তি বা সমঝোতা চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু পুরোনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নয়; বরং শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে নতুন চুক্তিতে কার্যকর নিশ্চয়তা যুক্ত করা।

গঙ্গার পানিপ্রবাহ বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নদ-নদীর নাব্যতা, সুপেয় পানি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভর করে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা। গড়াইয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনেও মিষ্টি পানির প্রবাহ পৌঁছায়। ফলে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে নতুন সমঝোতা না হলে দেশের নদী ও পরিবেশব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা ব্যারাজ পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পানির প্রাপ্যতা বিবেচনায় ১০ দিনভিত্তিক সময়সূচি অনুসরণ করে পানি বণ্টন করা হয়। অর্থাৎ, ফারাক্কায় নির্দিষ্ট সময়ে যত পানি পাওয়া যায়, চুক্তিতে নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী তার একটি অংশ বাংলাদেশ এবং অন্য অংশ ভারত পায়।

তবে চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, এতে স্বয়ংক্রিয় নবায়নের কোনো বিধান নেই। চুক্তির ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুই দেশের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এটি নবায়ন করা যেতে পারে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন সমঝোতা না হলে পরবর্তী সময়ে পানি বণ্টনের ব্যবস্থা কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের মতে, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যূনতম প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মতো শক্তিশালী নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে বাংলাদেশ এবার শুধু পুরোনো চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন বা সংশোধিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে চায়। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ৮ অক্টোবর পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার আশা করছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের পানি বণ্টন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল, কিন্তু ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে সেই বিধান রাখা হয়নি। নতুন চুক্তিতে এ ধরনের নিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার।

মন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। গত ৯ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হবে।

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে জেআরসি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। গঙ্গা চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার গতি ও সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ২৯ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি নবায়নের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর অনুরোধের বিষয়ে ভারত থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জেআরসির সর্বশেষ কারিগরি আলোচনা হয়েছিল মে মাসে এবং সর্বশেষ নিশ্চিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালে।

এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের কারিগরি আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ, নতুন চুক্তির শর্ত, পানির পরিমাণ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে উভয় দেশের সরকারের সম্মতি প্রয়োজন।

গঙ্গার পানি বণ্টন শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয় নয়; ভারতের অভ্যন্তরীণ পানির চাহিদাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গঙ্গার উজানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের কৃষি, শিল্প ও নগরাঞ্চলের পানির চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পানির প্রয়োজন এবং রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান চুক্তির আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। এর আগে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে সমঝোতা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। গঙ্গা চুক্তির ক্ষেত্রেও রাজ্যগুলোর পানির চাহিদা ও কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সেটিও আলোচনার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে চুক্তি নবায়নে বিলম্বের একমাত্র কারণ রাজনৈতিক সম্পর্ক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। পানির প্রাপ্যতা, উজানের চাহিদা, তথ্য বিনিময় এবং দুই দেশের আলোচনার কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী পানিবণ্টন ব্যবস্থা কী হবে, তা নতুন সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে। চুক্তি না থাকলেই ভারত সব পানি আটকে দেবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যে নির্ধারিত বণ্টনব্যবস্থা রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে। পদ্মার পানির ওপর নির্ভরশীল নদ-নদীর প্রবাহ কমে গেলে সেচ, মৎস্য আহরণ, নৌপরিবহন ও কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আগে থেকেই একটি বড় সমস্যা। নদীর পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এ ছাড়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের মতো বৃহৎ সেচব্যবস্থাও নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। পানির প্রবাহ কমে গেলে এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পের আওতায় সেচের জমির পরিমাণ একসময় ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার নির্ধারিত থাকলেও পানির সংকটে তা কমে এসেছে।

গঙ্গার প্রধান শাখা নদীগুলোর একটি গড়াই। পদ্মা থেকে পানি নিয়ে গড়াই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানিপ্রবাহে ভূমিকা রাখে। এই প্রবাহ সুন্দরবনের আশপাশের নদীগুলোতে মিষ্টি পানির জোগান বজায় রাখতেও সহায়তা করে।

শুষ্ক মৌসুমে গড়াইয়ের পানিপ্রবাহ কমে গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে লবণাক্ততার প্রভাব বাড়তে পারে। এতে কৃষিজমি, মৎস্যসম্পদ, জলজ প্রাণী ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে মিষ্টি ও লবণাক্ত পানির ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে গেলে লবণাক্ত পানি আরও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার চাপ আগে থেকেই রয়েছে। এর সঙ্গে নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এএফপির প্রতিবেদনে পরিবেশকর্মী শেখ রোকনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অতীতে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার সময় অন্তত তিনটি নদী প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে গড়াইয়ের প্রবাহ কমে সুন্দরবনে মিষ্টি পানির সরবরাহেও প্রভাব পড়েছিল।

বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন চুক্তি শুধু ফারাক্কা পয়েন্টে পানি ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং পুরো গঙ্গা অববাহিকার পানিপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন, উজানের পানি প্রত্যাহার এবং নদীর পরিবেশগত প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

পানি বণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমিরের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতার ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধা। এ ক্ষেত্রে নদীকে শুধু পানির উৎস হিসেবে না দেখে একটি অভিন্ন পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য পানির ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করা।

২. পানির হিস্যা নির্ধারণে হালনাগাদ নদীর প্রবাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য ব্যবহার করা।

৩. উজানে পানি প্রত্যাহার ও অবকাঠামো নির্মাণের তথ্য দুই দেশের মধ্যে বিনিময় করা।

৪. নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পানির বিষয়টি বিবেচনা করা।

৫. বন্যা ও অতিরিক্ত পানিপ্রবাহ মোকাবিলায় যৌথ তথ্য বিনিময় ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

৬. বিরোধ দেখা দিলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রাখা।

গঙ্গার পানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিজস্ব অবকাঠামোগত পরিকল্পনার মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অন্যতম। প্রকল্পটির মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

গত মে মাসে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হয়। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি ডলার। পানিসম্পদমন্ত্রীও জানিয়েছেন, প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করলেই গঙ্গার পানির ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নদীতে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ থাকা প্রয়োজন। উজান থেকে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হলে ব্যারেজের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো। বাংলাদেশের চাওয়া নতুন চুক্তিতে পানির নিশ্চয়তা, হালনাগাদ তথ্য এবং অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা। অন্যদিকে ভারত অভিন্ন নদীর বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনার কথা বলছে।

১২ ডিসেম্বরের আগে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দুই দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক সম্পর্কের স্বার্থে বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

গঙ্গার পানি শুধু একটি নদীর পানি বণ্টনের প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন, সুপেয় পানি, নদীর অস্তিত্ব এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত। তাই নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে