×
ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

উত্তরা ফাইন্যান্সের পর তছনছ লিজিং খাত: মাঠে নামল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ০৭:৪২:১৬
উত্তরা ফাইন্যান্সের পর তছনছ লিজিং খাত: মাঠে নামল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডে ঘটে যাওয়া হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও চরম প্রশাসনিক বিপর্যয়ের পর এবার পুরো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের দিকে নজর জোরদার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। বছরের পর বছর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করা, ভুয়া বা জামানতহীন ঋণ বিতরণ এবং আমানতকারীদের জমানো অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে দেশের একাধিক সমস্যাগ্রস্ত এনবিএফআই-এর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আর্থিক খাত সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ফাইন্যান্সের মতো খাদের কিনারে থাকা অন্যান্য এনবিএফআইগুলোর অডিট ঘাটতি ও অননুমোদিত লেনদেনের বিস্তার এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অডিট ও তদারকি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খাতটির বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গত তিন থেকে চার বছর ধরে তাদের নিরীক্ষিত বার্ষিক হিসাব বিবরণী পর্ষদে অনুমোদন বা প্রকাশ করতে পারেনি। এর ফলে আমানতকারী ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা পুরোপুরি ধোঁয়াশাময় হয়ে পড়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, যোগ্যতা ও জামানত যাচাই না করেই প্রভাবশালী মহলের চাপে পরিচালনা পর্ষদের অসাধু চক্র কোটি কোটি টাকার বেনামী ঋণ পাস করেছে। পর্ষদের অনুমতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ অননুমোদিত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর এবং গ্রাহকের অর্থ দিয়ে শেয়ারবাজার কিংবা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাতে অবৈধ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলছে একের পর এক প্রতিষ্ঠানে। ফলে আর্থিক খাতের একটি বড় অংশ এখন চরম শ্রেণিকৃত ও অনাদায়ী খেলাপী ঋণের বোজা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

এমন অরাজক পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অতিমাত্রায় মূলধন ঘাটতি এবং পুনর্গঠনে ব্যর্থ হওয়া বেশ কিছু এনবিএফআই-কে 'অকার্যকর' ও 'নন-ভায়াবল' ঘোষণা করে সেগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ কিংবা দ্রুত অবসায়ন (Liquidation) প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা আর্থিক বিবরণী তৈরিতে কারচুপি ও বিলম্বের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দুদক এবং অন্যান্য আইনি সংস্থার মাধ্যমে ফৌজদারি মামলা দায়েরের পথ তৈরি হচ্ছে।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে স্বাধীন অডিটর দিয়ে চার বছরের বকেয়া বা নতুন আর্থিক হিসাব অডিট না করা হলে সেসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণ ও পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন করে কোনো জামানতহীন বা শর্তহীন চলতি মূলধন ঋণ অনুমোদন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর ধরে তদারকির অভাব ও পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র গোটা এনবিএফআই খাতের মূল ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে। উত্তরা ফাইন্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানের চরম পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিলম্বিত হলেও কঠোর অবস্থান যদি নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবেই সাধারণ আমানতকারীদের হারানো আস্থা কিছুটা হলেও ফিরে আসতে পারে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে