×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যয়ের ধারেকাছেও নেই বিদেশিরা

২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৮:৫৯:০৯
বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যয়ের ধারেকাছেও নেই বিদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিদেশী নাগরিকরা তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করছেন, বিশ্বজুড়ে প্রবাসী ও বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় করছেন তার প্রায় চার গুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেল আগস্ট মাসে দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশিরা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করেছেন প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা। তার বিপরীতে একই সময়ে বিদেশি পর্যটক ও নাগরিকরা বাংলাদেশে কার্ড ঘষে খরচ করেছেন মাত্র ২৪৯ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক সীমানায় কার্ড ভিত্তিক লেনদেনের এই বিশাল ব্যবধান দেশের অর্থপ্রবাহের একটি নতুন চিত্র নির্দেশ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডের ব্যবহার হয়েছিল ৯৮৫ কোটি টাকার মতো, যা আগস্টে কিছুটা বেড়ে ৯৮৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আগস্টে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের কার্ডে ব্যয় ৬.২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল; জুলাইয়ের ২৩৪ কোটি টাকার লেনদেন আগস্টে দাঁড়ায় প্রায় ২৪৯ কোটি টাকায়।

আগস্ট মাসের লেনদেন বিশ্লেষণের বরাতে জানা যায়, বিদেশে ব্যবহৃত বাংলাদেশিদের প্লাস্টিক মানির বড় অংশই ছিল ক্রেডিট কার্ড—যার অর্ধেকেরও বেশি বা ৫০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে ক্রেডিট কার্ড থেকে। এছাড়া ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ৪২২ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয়। পছন্দের দেশের তালিকায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল সবার ওপরে (মোট বৈশ্বিক ক্রেডিট কার্ড খরচের ১৭.১৬%), যার পরেই অবস্থান থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সিঙ্গাপুরের। অন্যদিকে ডেবিট কার্ডের সিংহভাগ (১৪.১৯%) ব্যবহৃত হয়েছে যুক্তরাজ্যে এবং প্রিপেইড কার্ডের লেনদেনে শীর্ষে রয়েছে ভারত (১৮.৭১%)।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও, একই সময়ে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারে মন্দা দেখা গেছে। আগস্ট মাসে দেশের ভেতরের লেনদেন প্রায় ৫.৪৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪,০৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়, যা তার আগের মাসে ছিল ৪,৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। দেশীয় ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ বা ৪৮.১৪ শতাংশ গেছে নিত্যপণ্যের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে। বাকি লেনদেনের মধ্যে রিটেইল শপে ১২.৬৭%, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ১০.৮০%, ফার্মেসি ও ওষুধে ৬.৯৪% এবং বুথ থেকে নগদ টাকা তোলায় ৬.৪৩% অর্থ ব্যবহৃত হয়। তবে সার্বিক কেনাকাটা কমলেও রিটেইল শপ, ইউটিলিটি, পোশাক, যাতায়াত ও ওষুধের চিকিৎসায় লেনদেনের পরিমাণ গত মাসের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশে সব ধরণের ডিজিটাল কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় বিপ্লব ঘটেছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে যেখানে ২ কোটি ৪২ লাখ ডেবিট, ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ক্রেডিট এবং ১০ লাখ ২৭ হাজার প্রিপেইড কার্ড সচল ছিল; ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ তা লাফিয়ে যথাক্রমে ৪ কোটি ৮৭ হাজার, ২৮ লাখ ৫ হাজার এবং ৯২ লাখ ৭১ হাজারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৬ শতাংশ এবং লেনদেন বেড়েছে ১০৩ শতাংশ, যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে প্রিপেইড কার্ড।

বর্তমানে দেশে আগস্ট মাস শেষে ক্রেডিট কার্ড গ্রহীতাদের অনুকূলে অনুমোদিত ব্যাংক ঋণের মোট সীমার পরিমাণ ছিল ৪৩,১০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে গ্রাহকদের নিকট বকেয়া স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪,৪৮২ কোটি টাকা।

ডিজিটাল অর্থনীতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নগদ কাগজের টাকার ব্যবহার কমিয়ে এনে লেনদেনে ডিজিটাল মাধ্যম প্রসারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরলস কাজ করছে। কার্ডের প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্রুত পেমেন্টের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ কোড প্রযুক্তির প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে