সরবরাহ সংকট কাটিয়ে মুনাফায় ফিরছে রানার, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধিতে বাধা কোথায়?
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস পিএলসির আর্থিক ফলাফলে চলতি অর্থবছরে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার লোকসানে পড়ে কোম্পানিটি। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে এসে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলে প্রথম নয় মাসের সম্মিলিত হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহও বেড়েছে। তবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য আগের অর্থবছরের সমাপনী অবস্থানের চেয়ে কম রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির সঙ্গে উৎপাদন চুক্তি, গাড়ি আমদানি ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ এবং মূলধন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য আগের বছরের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বাড়বে, নাকি অপরিবর্তিত থাকবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কোম্পানিটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫০ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪৩ পয়সা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধির পেছনে পুরো নয় মাসজুড়ে একই ধরনের আয় ছিল না। বরং প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান এবং তৃতীয় প্রান্তিকে আবার মুনাফায় ফেরার মধ্য দিয়ে এই ফলাফল এসেছে।
প্রথম প্রান্তিকে লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফেরার কারণ
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রানার অটোমোবাইলসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ঋণাত্মক ৭২ পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ে লোকসানে থাকা কোম্পানিটি এবার মুনাফায় ফিরেছে। দুই সময়ের ব্যবধান বিবেচনায় শেয়ারপ্রতি আর্থিক ফলাফলে উন্নতি হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে তিন চাকার ও চার চাকার বাণিজ্যিক যানবাহনের বিক্রি বাড়ায় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ বিক্রয় কার্যক্রমের উন্নতি কোম্পানিটির মুনাফায় ফেরার অন্যতম প্রধান সহায়ক ছিল। আগের বছরের লোকসান থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে যানবাহন বিক্রির ইতিবাচক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে মুনাফা বাড়লেও প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ এ সূচকে কমেছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা প্রায় ৪৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ করায় নগদ প্রবাহে এই হ্রাস দেখা দেয়।
এদিকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৬৬ টাকা ৭০ পয়সা। প্রথম প্রান্তিক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ টাকা ৮ পয়সায়। অর্থাৎ তিন মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছিল ৩৮ পয়সা। কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মুনাফার উন্নতি এবং মূল কোম্পানি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই অগ্রগতি হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার লোকসান কেন?
প্রথম প্রান্তিকের ইতিবাচক ফলাফলের পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার দুর্বলতার মুখে পড়ে রানার অটোমোবাইলস। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়ায় ঋণাত্মক ১২ পয়সা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ইতিবাচক ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আর্থিক ফলাফলে অবনতি হয়েছে ৪৭ পয়সা।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন চাকার যানবাহন বিভাগের সরবরাহব্যবস্থায় অনিবার্য বিঘ্নের কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরবরাহব্যবস্থার সমস্যার ফলে উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে ব্যবসার আয়েও তার প্রভাব পড়ে। প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি বৃদ্ধির যে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গিয়েছিল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সরবরাহসংকটের কারণে তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
প্রথম ছয় মাসের সম্মিলিত হিসাবে অবশ্য কোম্পানিটি মুনাফায় ছিল। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৬ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ঋণাত্মক ৩৭ পয়সা। অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসের হিসাবে শেয়ারপ্রতি আয় ৬৩ পয়সা উন্নত হয়েছে এবং আগের বছরের লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে কোম্পানিটি।
তবে প্রথম ছয় মাসে নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্যে চাপ দেখা যায়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৭ টাকা ৩১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ টাকা ১১ পয়সা। অর্থাৎ কমেছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা বা প্রায় ৪৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ সময়ে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের কারণে নগদ প্রবাহ কমেছে।
একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও কমে যায়। ২০২৫ সালের ৩০ জুন ৬৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ৩১ ডিসেম্বর তা দাঁড়ায় ৬৫ টাকা ৯৬ পয়সায়। অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে ৭৪ পয়সা। কোম্পানি জানিয়েছে, তিন চাকার যানবাহন ব্যবসায় অপ্রত্যাশিত সরবরাহসংকটের কারণে মুনাফা কমে যাওয়ায় সম্পদমূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তৃতীয় প্রান্তিকে আবার মুনাফায় ফেরার চিত্র
প্রথম দুই প্রান্তিকে ওঠানামার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে রানার অটোমোবাইলসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১৯ পয়সা বা প্রায় ৪৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ কারণে আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় আয় কমলেও কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বোঝার জন্য তিন মাসের আয় এবং নয় মাসের সম্মিলিত আয়ের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। আগের বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বেশি থাকায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তুলনামূলকভাবে কম আয় দেখা গেছে। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকের সম্মিলিত ফলাফলে আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হওয়ায় নয় মাসের হিসাবে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫০ পয়সা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭ পয়সা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় আয় কমলেও নয় মাসের সম্মিলিত হিসাবে কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাই শুধু তৃতীয় প্রান্তিকের সঙ্গে আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনা করলে পুরো অর্থবছরের আর্থিক চিত্র বোঝা যাবে না।
তবে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা ধরে রাখার পাশাপাশি পরিচালন নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫৮ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪ টাকা ২৮ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে এই সূচক বেড়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বাড়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রথম দুই প্রান্তিকে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের কারণে নগদ প্রবাহে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, নয় মাসের সম্মিলিত হিসাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উন্নতি সেই সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে এই তথ্য থেকে সরবরাহসংকট পুরোপুরি দূর হয়েছে বা ব্যবসার সব বিভাগ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বিওয়াইডির সঙ্গে চুক্তি: ভবিষ্যৎ ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা
রানার অটোমোবাইলসের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনার ক্ষেত্রে চীনের গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির সঙ্গে চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের ২০ মার্চ বিওয়াইডি অটো ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষরের বিষয়ে অনুমোদন দেয়। কোম্পানিটি এই অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি জানিয়েছিল, এই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে সংযোজিত যানবাহন উৎপাদনব্যবস্থার মূল কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পটির বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং প্রত্যাশিত আর্থিক ফলাফল মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে চুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি গাড়ির মডেলের জন্য পৃথক কারিগরি লাইসেন্স চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। এসব পৃথক চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক, পরিচালন ও আর্থিক শর্তাবলি আরও বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হওয়ার কথা।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিওয়াইডির সঙ্গে মূল চুক্তিটি ২০২৫ সালের ২০ মার্চ চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিওয়াইডির পক্ষ থেকে অবশিষ্ট আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল বলে কোম্পানি জানিয়েছিল। প্রকল্পের চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ, আর্থিক পূর্বাভাস এবং সংশ্লিষ্ট ফলাফল তখনো মূল্যায়নাধীন ছিল এবং সরবরাহকারী ও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
পরবর্তী সময়ে রানার অটোমোবাইলসের পরিচালনা পর্ষদ বিওয়াইডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি লাইসেন্স চুক্তি স্বাক্ষর এবং বিওয়াইডির সম্পূর্ণ তৈরি যানবাহন আমদানি ও বাজারজাতকরণের অনুমোদন দেয়। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং উৎপাদন প্রকল্প চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে চুক্তির অনুলিপি জমা দেওয়ার বিষয়টি তখনো বাকি ছিল বলে কোম্পানি জানিয়েছিল।
বিওয়াইডির সঙ্গে এই অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে রানারের পণ্যপরিসর, বাজারে উপস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আমদানি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে নতুন যানবাহন বাজারে আনার উদ্যোগ কোম্পানির বিক্রয় কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। তবে এই উদ্যোগ থেকে কখন কত আয় হবে, বিনিয়োগের পরিমাণ কত দাঁড়াবে কিংবা মুনাফায় কতটা অবদান আসবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত আর্থিক তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় এখনই নির্দিষ্ট অঙ্কে সম্ভাব্য আয় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিওয়াইডির সঙ্গে চুক্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় ফেরার কারণ হিসেবে কোম্পানি সরবরাহসংকটের প্রভাব ও গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উন্নতির কথা জানিয়েছে। বিওয়াইডির চুক্তি তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ কারণ—এমন তথ্য কোম্পানির প্রকাশিত বিবরণে নেই। ফলে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং ইতোমধ্যে অর্জিত মুনাফার কারণকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মূলধন বাড়ানো ও অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনা
রানার অটোমোবাইলসের আর্থিক পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি এবং অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত ২০২তম সভায় অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ জন্য বিশেষ সাধারণ সভা, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর এবং প্রযোজ্য অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত রয়েছে।
একই সভায় ২৫০ কোটি টাকার ক্রমপুঞ্জীভূত, অংশগ্রহণবিহীন অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এসব শেয়ারের ৫০ শতাংশ রূপান্তরের সুযোগ রাখার কথা জানানো হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিতে হবে।
মূলধন বৃদ্ধির উদ্যোগ কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের প্রয়োজন মেটানো এবং আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে নতুন শেয়ার ইস্যু ও মূলধন কাঠামোর পরিবর্তন বিদ্যমান সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারত্বের অনুপাত এবং ভবিষ্যৎ শেয়ারপ্রতি আয়ের হিসাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই প্রভাব নির্ভর করবে ইস্যুর শর্ত, রূপান্তরের বাস্তবায়ন, অর্থের ব্যবহার এবং কোম্পানির ভবিষ্যৎ মুনাফার ওপর।
তাই মূলধন বৃদ্ধির প্রস্তাবকে সরাসরি মুনাফা বৃদ্ধি বা লভ্যাংশ বাড়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং কোম্পানি কীভাবে এই অর্থ ব্যবহার করবে, তা থেকে কত আয় তৈরি হবে এবং নতুন মূলধনের বিপরীতে কী ধরনের আর্থিক দায় বা অধিকার সৃষ্টি হবে, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ঋণমান ও সম্পদমূল্যের চিত্র
রানার অটোমোবাইলসকে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড দীর্ঘমেয়াদে ‘এ১’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’ ঋণমান দিয়েছে। ঋণমানের পূর্বাভাস স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন, ২০২৪ সালের ৩০ জুন ও ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ২০ পয়সায়। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এই মূল্য ছিল ৬৬ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে ৫০ পয়সা বা প্রায় শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড পরিশোধ এবং তিন চাকার যানবাহন ব্যবসায় অপ্রত্যাশিত সরবরাহসংকটের কারণে মুনাফা কমে যাওয়ায় নিট সম্পদমূল্য কমেছে। ফলে শেয়ারপ্রতি আয় ও নগদ প্রবাহের উন্নতি থাকলেও সম্পদমূল্যে এখনো আগের অর্থবছরের সমাপনী অবস্থানে ফিরে যেতে পারেনি কোম্পানিটি।
এবার কি বাড়বে রানার অটোমোবাইলসের ডিভিডেন্ড?
রানার অটোমোবাইলস ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। এখন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিবেচনার জন্য ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর সোমবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। ওই সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। তবে চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের পরিমাণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
এবার লভ্যাংশ বাড়ার পক্ষে কয়েকটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। প্রথমত, নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের ৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বাড়ায় নয় মাসের সম্মিলিত পরিচালন নগদ প্রবাহ ১৪ টাকা ২৮ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬ টাকা ৫৮ পয়সায় পৌঁছেছে। তৃতীয়ত, তিন চাকার ও চার চাকার বাণিজ্যিক যানবাহনের বিক্রি বাড়ার ফলে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছিল। পাশাপাশি বিওয়াইডির সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে লভ্যাংশ বাড়ানোর পথে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১২ পয়সা লোকসান করেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশের বেশি কমেছে। নয় মাসের নিট সম্পদমূল্যও আগের অর্থবছরের সমাপনী অবস্থানের তুলনায় কম। এ ছাড়া সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না এবং বিওয়াইডির সঙ্গে প্রকল্প থেকে কখন আয় শুরু হবে, তা নিশ্চিত নয়।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ডিভিডেন্ড নির্ধারণের সময় শুধু শেয়ারপ্রতি আয় নয়, পুরো বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, নগদ অর্থের প্রাপ্যতা, পরিচালন নগদ প্রবাহ, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং মূলধন পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে পারে। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে কোম্পানি মুনাফার একটি অংশ ব্যবসায় ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আয় বাড়লেও ক্যাশ ডিভিডেন্ড অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকবে।
অন্যদিকে, অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বিক্রি ও মুনাফার উন্নতি হলে এবং পরিচালন নগদ প্রবাহ ইতিবাচক থাকলে আগের বছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের চেয়ে বেশি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সরবরাহসংকটের প্রভাব কমে গিয়ে উৎপাদন ও বিক্রি স্বাভাবিক হলে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বাড়তে থাকলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় আরও উন্নতি আসতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পূর্ণ বছরের ফলাফল ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর।
সব মিলিয়ে, রানার অটোমোবাইলসের আর্থিক প্রতিবেদনে নয় মাসের হিসাবে মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি বাড়ায় লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফেরে কোম্পানিটি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তিন চাকার যানবাহনের সরবরাহসংকটে আবার লোকসান হয় এবং তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় কমলেও চলতি অর্থবছরে মুনাফা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে বিওয়াইডির সঙ্গে চুক্তি, গাড়ি আমদানি ও বাজারজাতকরণের পরিকল্পনা এবং মূলধন বৃদ্ধির উদ্যোগ ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে এসব উদ্যোগের আর্থিক সুফল কতটা এবং কখন পাওয়া যাবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রানার অটোমোবাইলসের ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা নিশ্চিত নয়। আগামী ২৬ অক্টোবরের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ডিভিডেন্ডের সুপারিশই এ বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা দেবে।
এসএ খান/
পাঠকের মতামত:
- সরবরাহ সংকট কাটিয়ে মুনাফায় ফিরছে রানার, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধিতে বাধা কোথায়?
- মুনাফায় উল্লম্ফন, সম্পদমূল্য বৃদ্ধি—প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডিভিডেন্ডে নতুন সম্ভাবনা
- আয় ও সম্পদমূল্য বাড়লেও যে কারণে ডিভিডেন্ড বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা
- ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি স্বামী -স্ত্রী, জানা গেল আসল সত্য
- সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন
- তিন ব্যাংকের এমডিদের নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত
- তৃণমূল থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে ওঠা ইশরাকের বর্ণাঢ্য পথচলার গল্প
- ৪৭–১৩ গোলের হার, বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
- ৮ মাসে কপাল পুড়ল তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর
- ব্যাংকিং খাতে সরকারের বড় সাহসী সিদ্ধান্ত
- ইশরাকের পদত্যাগ ও স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনা
- কেয়া কসমেটিকসকে ঋণ দিয়ে বিপাকে শেয়ারবাজারের চার ব্যাংক
- ভারতের শেয়ারবাজারে কালোমেঘ: উধাও ৪ লাখ কোটি রুপি
- আইসিসির নতুন নিয়মে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কেন বিপাকে?
- জাপানের শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ-জাপান নতুন চুক্তি
- টিকটক ও ফ্রি ফায়ারের টানে ঘরছাড়াও ৩ শিক্ষার্থী
- লাফার্জহোলসিমের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- বাংলাদেশি পাসপোর্টেই ভিসা ছাড়াই ৩৫ দেশে ভ্রমণ
- তেলের দাম কমতেই স্বর্ণের বাজারে উল্টো চিত্র!
- এবার ক্ষমা চাইলেন সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা
- বিলবোর্ডকে রাস্তা ভেবে ট্রাক চালালেন চালক
- অস্ত্র হাতে নেওয়ার কারণ জানালেন ইশরাক
- আর্থিক ঘাটতি পূরণে ৭ প্রতিষ্ঠানকে সময় বেঁধে দিল বিএসইসি
- ইশরাকের পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন এনসিপি নেতারা
- পদত্যাগের কারণ জানালেন ইশরাক
- বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- নতুন নিয়মে সরাসরি শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ পাচ্ছে ৭ শ্রেণির কোম্পানি
- টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
- ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিএসইসির
- শেয়ারবাজারে সংস্কারের আশ্বাস, পতন থামাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই
- অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে চাইলেন আমির হামজা
- দেশে টিকার সুরক্ষা বলয়ে বড় ফাটল, সাড়ে ৮ লাখ শিশু ঝুঁকিতে!
- জুলাই যোদ্ধাদের অবদান নিয়ে যা বললেন মির্জা আব্বাস
- বিটকয়েনে বিনিয়োগের আগে যে বিষয়গুলো বুঝতে হবে
- সোমবার স্বর্ণ কিনতে গেলে বিপাকে পড়তে পারেন ক্রেতারা
- একই পরিবারের ৫ মৃত্যু: অডিওতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ককরোচদের ঠেকাতে মাঠে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’, প্রথম সমাবেশেই তীব্র বার্তা
- দশ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নতুন নির্দেশনা
- সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শির'চ্ছেদ যা বললেন শায়খ
- ইশরাক হোসেনকে নিয়ে যা বললেন পিনাকী ভট্টাচার্য ও রাশেদ খান
- ভারতের মাটিতেই ভারতের কর্মকর্তাদের শূলে তুলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র
- পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে আলোচনা, যা জানালেন ইশরাক
- মোদি হাসিনার চেয়েও খারাপ ভারতীয় অধ্যাপকের মন্তব্যে তোলপাড়
- দুলামিয়া কটনের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- এজিএমের পরদিনই ডিভিডেন্ড বিতরণ: শেয়ারবাজারে ঐতিহাসিক রেকর্ড
- পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারে বড় উত্থানের পূর্বাভাস গবেষণা প্রতিষ্ঠানের
- বিনিয়োগকারী ঝুয়াং লিফেংয়ের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম নিষ্পত্তি করল বিএসইসি
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনার দামের নতুন তালিকা
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দাম প্রকাশ
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম জেনে নিন
- পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারে বড় উত্থানের পূর্বাভাস গবেষণা প্রতিষ্ঠানের
- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ
- সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শির'চ্ছেদ যা বললেন শায়খ
- ডিভিডেন্ড বিতরণ না করায় ৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- শেয়ারবাজারের ১৭০০ কোটি টাকার দায়িত্ব নিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান
- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- সালভো কেমিক্যালের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে ১৯ কোম্পানি
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৩৪ কোম্পানি
- ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিএসইসির
- অনির্দিষ্টকালের জন্য ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা
শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর
- সরবরাহ সংকট কাটিয়ে মুনাফায় ফিরছে রানার, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধিতে বাধা কোথায়?
- মুনাফায় উল্লম্ফন, সম্পদমূল্য বৃদ্ধি—প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডিভিডেন্ডে নতুন সম্ভাবনা
- আয় ও সম্পদমূল্য বাড়লেও যে কারণে ডিভিডেন্ড বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা
- ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ









