×
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চিকেন নেক নিয়ে মহাটেনশনে ভারত! 

২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১১:২৪:৩৬
চিকেন নেক নিয়ে মহাটেনশনে ভারত! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদী কেবল একটি জলধারা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার প্রধান উৎস। বর্তমানে এই তিস্তা নদীর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন মহাপরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। চীন ও ভারতের দ্বিমুখী আগ্রহের মাঝখানে পড়ে এই মহাপরিকল্পনাটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

এতদিন এই অঞ্চলে চীন ও ভারতের আধিপত্যের লড়াই ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ‘নেদারল্যান্ডস’ এই পরিকল্পনায় সরাসরি আগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের অংশগ্রহণ এই বিতর্ককে কেবল ভারত-চীন বিরোধের বাইরে এক নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রায় নিয়ে এসেছে।

ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের অতি নিকটবর্তী হওয়ায় তিস্তা নদী ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দিল্লির সবচেয়ে বড় ভয়—যদি চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সুরক্ষার ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তিগত নজরদারি ও প্রভাব স্থায়ী রূপ নিতে পারে। এ কারণেই ভারত এই প্রকল্পটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকি মনে করছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে তিস্তা নিয়ে ভারতের সাথে চুক্তি ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ভারতের অনিচ্ছার কারণে প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় বাংলাদেশ এখন বিকল্প পথের সন্ধান করছে। ঢাকা এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেবল পানি সংকট নিরসনই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনা ও জীবিকা রক্ষার একটি টেকসই সমাধান খুঁজছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন আর নিছক কোনো পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রকল্প নয়। এটি এখন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির একটি বড় দাবা খেলায় পরিণত হয়েছে। চীন, ভারত এবং নেদারল্যান্ডসের মতো তৃতীয় পক্ষ যদি এই প্রকল্পে কার্যকরভাবে যুক্ত হয়, তবে বাংলাদেশের সামনে এক নতুন বাণিজ্যিক দুয়ার উন্মোচিত হতে পারে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি বড় ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনাও রয়েছে। তিস্তার পানিবণ্টন ও মহাপরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ঢাকা, দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যকার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার সক্ষমতার ওপর।

তিস্তার বুকে কি তবে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক চালের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে? উত্তরবঙ্গের মানুষের বেঁচে থাকার দাবি আর ভারতের নিরাপত্তার ঝুঁকির মাঝখানে বাংলাদেশ কীভাবে তার স্বার্থ রক্ষা করবে—এটিই এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে তিস্তা এখন কেবল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমরণ সমস্যা নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি অগ্নিপরীক্ষা।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে