×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মোবাইল ছাড়াই যেভাবে ধরা পড়েন ঘাতক সুমন

২০২৬ অক্টোবর ১০ ২০:২৮:০৭
মোবাইল ছাড়াই যেভাবে ধরা পড়েন ঘাতক সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। নিজের কাছে মোবাইল ফোন না রেখেও শেষ পর্যন্ত একটি ফোনকলের সূত্র ধরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গ্রেপ্তারের এ তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের কাছ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। পরে গাড়িটির মালিকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালাতেন সুমন মিয়া।

এরপর সুমনের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং কুমিল্লার লালমাইয়ের জয়নগর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর এক ভাই চট্টগ্রামে থাকেন বলেও তথ্য পান গোয়েন্দারা। এসব সূত্র ধরে সুমনের সম্ভাব্য অবস্থান চট্টগ্রামে হতে পারে বলে ধারণা করেন তাঁরা।

তদন্তে জটিলতা তৈরি হয় সুমনের কাছে নিজস্ব মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস না থাকায়। তবে তাঁর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যান গোয়েন্দারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুমন কুমিল্লার জগতপুর এলাকার এক আত্মীয়কে ফোন করেন। বিপদে পড়েছেন জানিয়ে বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠাতে বলেন তিনি।

সুমন চট্টগ্রাম নগরের অলংকার এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ওই কল করেছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। ফোনকলের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অলংকার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তাজমিনের সঙ্গে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় সুমনের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। এরপর তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলেও তাঁকে ধরে ফেলা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে সুমন সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ।

পুলিশ আরও জানায়, অটোরিকশাটির মালিক আবুল হাসেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সুমনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর তাঁর শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য সূত্র মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।

সুমনের পারিবারিক জীবন সম্পর্কেও প্রতিবেদনে কিছু তথ্য উঠে এসেছে। তিনি কয়েক বছর আগে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের কারণে সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তবে এসব ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়; মামলার দায় ও ঘটনার প্রকৃত বিবরণ নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া।

১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া সুমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তাঁর অপরাধের দায় নির্ধারিত হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে