×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডির বিরুদ্ধে ২১১ কোটি অনিয়মের অভিযোগ

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৭:১৫:৪১
পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডির বিরুদ্ধে ২১১ কোটি অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অন্যতম প্রাচীন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পূবালী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের দুই কর্তা—চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও আমদানি বিল পরিশোধের নামে বিশাল অঙ্কের অর্থ তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, পূবালী ব্যাংকের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২১১ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের প্রাথমিক অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে। পুরো বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য এরই মধ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যেখানে ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালক প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চলমান এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্যাংকটির অতিরিক্ত মূল্যে বৈদেশিক মুদ্রা বা মার্কিন ডলার ক্রয়ের ঘটনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ব্যাংকের একটি নির্দিষ্ট শাখা নির্ধারিত বাজারদরের চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি দামে ডলার সংগ্রহ করেছে। যেখানে তৎকালীন সময়ে ডলারের স্বাভাবিক দাম ১০৯ টাকা থেকে ১১০ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা, সেখানে প্রতি ডলার ১১৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৬০ পয়সার পর্যন্ত উচ্চমূল্যে কেনা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় বাজারদরের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রায় ২১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করার তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ কর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এত বেশি দামে ডলার কেনা সম্ভব নয়। এখন মূলত এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবং এর কোনো অংশ ব্যাংক প্রধান বা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বা অন্যত্র আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি এলসি বা আমদানি বিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত নিয়ম বা হারের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে গ্রাহকদের কাছ থেকে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। আদায়কৃত এসব অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ সন্দেহজনকভাবে তৃতীয় পক্ষের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের আশঙ্কা জোরালো করছে।

এদিকে শুধু মুদ্রাবাজার বা আমদানি খাত নয়, পূবালী ব্যাংকের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মেরও কড়া সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগের দীর্ঘ তালিকায় বলা হয়েছে, যথাযথ বা পর্যাপ্ত জামানত বা সিকিউরিটি ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যান্ত্রিকভাবে বড় অংকের লোন পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিতরণকৃত কিছু ঋণের টাকা নিয়ম ভেঙে অন্য ব্যাংকের দেনা বা দায় শোধের কাজেও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ঋণ নীতিমালা পুরোপুরি উপেক্ষা করে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, পূবালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমানের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে বীমা খাতের অন্যতম আলোচিত প্রতিষ্ঠান ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের মামলায় আইডিআরএ-এর দায়ের করা অভিযোগে তার নাম যুক্ত ছিল। ওই সময় কোম্পানির অফিশিয়াল তথ্য ও রেকর্ডপত্র জালিয়াতি কিংবা মুছে ফেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগও উঠেছিল তার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে