×
ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ধারাবাহিক আর্থিক উন্নতির পর  ডিভিডেন্ড জোয়ারে ভাসাতে পারে যে কোম্পানি

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৬:১৯:৫১
ধারাবাহিক আর্থিক উন্নতির পর  ডিভিডেন্ড জোয়ারে ভাসাতে পারে যে কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সূচকে উন্নতি করছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস, পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং সম্পদমূল্য—তিন সূচকেই শক্তিশালী অবস্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ১০ টাকা ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের পুরো অর্থবছরের ১১ টাকা ১ পয়সার কাছাকাছি।

কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মৌলিক ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৬৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৫৪ পয়সা। একই সময়ে পরিশোধিত ইপিএস ৩ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৩১ পয়সা হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস ২ টাকা ৪৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি হয়েছে ৯৪ টাকা ৬৬ পয়সা, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুনে ছিল ৯০ টাকা ৯৯ পয়সা।

কোম্পানি জানিয়েছে, ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে আয় ও অন্যান্য আয় বাড়ার কারণেই প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে। এ বিষয়ে আয় ও অন্যান্য ব্যাপক আয়সংক্রান্ত বিবরণীর রাজস্ব অংশের ৩৩ থেকে ৩৭ নম্বর নোটে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। ফলে ইপিএস বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অস্বাভাবিক বা বিশেষ লেনদেন ছিল না। পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধিও মূলত ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমের ফল। একইভাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধির পেছনেও ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।

ছয় মাসে আরও শক্তিশালী আর্থিক ফল

দ্বিতীয় প্রান্তিকেও কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে মৌলিক ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ১৭ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৩২ পয়সা। আর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মৌলিক ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৮৪ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ৯৩ পয়সা।

একই সময়ে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে পরিশোধিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ১২ পয়সা। ছয় মাসে পরিশোধিত ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৭ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৫২ পয়সা।

জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে এনওসিএফপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৪৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি এনএভি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৮৩ পয়সায়। ২০২৫ সালের ৩০ জুনে এই এনএভি ছিল ৯০ টাকা ৯৯ পয়সা।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় আয় ও অন্যান্য আয় বৃদ্ধির কারণে ইপিএস বেড়েছে। ফলে ইপিএস বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ সময়ও উল্লেখযোগ্য কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হয়নি। পরিচালন নগদ প্রবাহ ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধির পেছনেও ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নয় মাসে ইপিএস ১০ টাকা ৫৭ পয়সা

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও কোম্পানিটির আয় বৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে পরিশোধিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৪৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা। আর জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে পরিশোধিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৮৩ পয়সা।

নয় মাসে এনওসিএফপিএস হয়েছে ৯ টাকা ৭৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৮৩ পয়সা। ২০২৬ সালের মার্চে শেয়ারপ্রতি এনএভি বেড়ে হয়েছে ৯৮ টাকা ৭১ পয়সা। ২০২৫ সালের জুনে এই এনএভি ছিল ৯০ টাকা ৯৯ পয়সা।

তৃতীয় প্রান্তিকের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় কোম্পানি জানিয়েছে, ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে রাজস্ব ও অন্যান্য আয় বাড়ার কারণেই ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আয় ও অন্যান্য ব্যাপক আয়সংক্রান্ত বিবরণীর রাজস্ব অংশের ৩৩ থেকে ৩৭ নম্বর নোটে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে ইপিএস বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নয় মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো অস্বাভাবিক লেনদেনও হয়নি।

একই সময়ে পরিচালন নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধির পেছনেও ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।

আগের বছর ৪০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড

সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মৌলিক ইপিএস ছিল ১১ টাকা ১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ৯০ টাকা ৯৯ পয়সা। ওই অর্থবছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদ ৪০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল, অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারে ৪ টাকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। সিএসইর কোম্পানি-তথ্যেও ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ৪০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের তথ্য রয়েছে।

এবারের চিত্রটি আগের বছরের তুলনায় বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই কোম্পানিটির পরিশোধিত ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৫৭ পয়সা, যা আগের পুরো বছরের ১১ টাকা ১ পয়সার প্রায় সমান। একই সঙ্গে এনএভি ৯০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বেড়ে মার্চে ৯৮ টাকা ৭১ পয়সায় উঠেছে। ফলে পুরো অর্থবছর শেষে আয় আরও বাড়লে আগের বছরের ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের তুলনায় বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা কোম্পানিটির তৈরি হতে পারে।

তবে ডিভিডেন্ড কত শতাংশ হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরই প্রকৃত ডিভিডেন্ড জানা যাবে। ৪০ শতাংশের পরিবর্তে ৪৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড হলে শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং ৫০ শতাংশ হলে ৫ টাকা নগদ ডিভিডেন্ড হতে পারে—এগুলো কেবল সম্ভাব্য হিসাব, কোম্পানির ঘোষণা নয়। নয় মাসের আয় ও সম্পদমূল্যের বর্তমান ধারা বিবেচনায় ৪০ শতাংশের সমান বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলা যায়; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে পূর্ণ বছরের মুনাফা, নগদ প্রবাহ ও পর্ষদের নীতির ওপর।

বিনিয়োগের জন্য কতটা অনুকূল

বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে কোম্পানিটির কয়েকটি ইতিবাচক দিক স্পষ্ট। প্রথমত, ইপিএস ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, এনওসিএফপিএসও আগের বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে। তৃতীয়ত, শেয়ারপ্রতি এনএভি ৯০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৮ টাকা ৭১ পয়সায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ আয়, পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং সম্পদমূল্য—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-১’ হিসেবে নিশ্চিত করেছে এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড। রেটিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং রেটিংয়ের তারিখ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ রেটিং দেওয়া হয়েছে।

এসব কারণে শুধু আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোম্পানিটির মৌলিক অবস্থানকে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বলা যায়। তবে শেয়ারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ইপিএস, এনএভি বা ডিভিডেন্ড যথেষ্ট নয়। বর্তমান বাজারদর, শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত, ডিভিডেন্ডের প্রকৃত ফলন, ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, নগদ প্রবাহ এবং কোম্পানির ব্যবসায়িক ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে। তাই আর্থিক ফল ভালো হওয়াকে বিনিয়োগের সরাসরি নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

এদিকে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৩টায় কোম্পানিটির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে।

ফলে আগামী ১৫ অক্টোবরের পর্ষদ সভা কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই সভায় পূর্ণ বছরের চূড়ান্ত আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ডিভিডেন্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এলে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে