×
ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি টাকায় এক বাড়ির সামনে সেতু, ৪১ লাখ ব্যয় ঘিরে নতুন বিতর্ক

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১১:৩৬:২৬
সরকারি টাকায় এক বাড়ির সামনে সেতু, ৪১ লাখ ব্যয় ঘিরে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নে একটি বাড়ির সামনে প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে মোট ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর এর প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্প নির্বাচন এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ধুলিয়া ইউনিয়নের মন্নান গাজী বাড়ির সামনে জামালকাঠি খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মূলত ওই বাড়ির বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, একই স্থানে তুলনামূলক কম ব্যয়ে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করেও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা আলিফ হোসেনের অভিযোগ, মন্নান গাজী বাড়িতে একজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বসবাস করেন। তার তদবিরে বাড়ির সামনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আলিফ হোসেন বলেন, একটি বাড়ির মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেতু নির্মাণ করা যৌক্তিক হয়নি। তার মতে, সেখানে কম খরচে আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মন্নান গাজী বাড়ির বাসিন্দা আবুল গাজী। তিনি জানান, তাদের বাড়িতে সাতটি ঘরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষ বসবাস করেন। তাদের নিয়মিত যাতায়াতের সুবিধার জন্যই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের পর বাড়ির বাসিন্দারা যাতায়াতে সুবিধা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সেতুটির নির্মাণকাজ করেছেন ঠিকাদার মো. আমির হোসেন। প্রকল্পটি কেন ওই স্থানে নেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্প নির্বাচন সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানার কথা নয়। তিনি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছেন এবং নির্ধারিত কাজ শেষ করেছেন। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও স্থান নির্বাচন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন না।

একটি বাড়ির সামনে সেতু নির্মাণে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকা ব্যয়ের বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, স্থান নির্বাচন, সম্ভাব্য উপকারভোগীর সংখ্যা এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে সেতুটি নির্মাণে কোনো অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে প্রকল্পের অনুমোদন, নকশা, ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে