×
ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

যে কারণে হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছিল ভারত

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ০৯:৩৭:৪৬
যে কারণে হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছিল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে এই প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে বা শেখ হাসিনাকে ঠিক কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দিতে পারেননি তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টির সঙ্গে আদালত জড়িত থাকায় নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর একটি প্যানেল আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক সেশনে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত সরকার এর আগে একাধিকবার জানিয়েছে যে বিষয়টি একটি আইনি ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। আদালত এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর ফলাফল বা সময়সীমা সম্পর্কে আগাম কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রক্রিয়াটি বন্ধ নেই; এটি চলমান রয়েছে।

আলোচনায় ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় বাংলাদেশে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল এবং শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত তাঁর বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি বলেন, ওই সময় ভারত এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না এবং শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি আরও ভিন্নভাবে তৈরি হতে পারত। একই সঙ্গে তিনি ওই সময়ের ঘটনাকে দুঃখজনক পরিস্থিতির ফল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের কোথাও যেন এমন পরিস্থিতিতে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক বা নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ইতিহাস, সংস্কৃতি, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং জনগণের সম্পর্কও দুই দেশের বন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকাকে অস্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়মিত সংলাপ, পরামর্শ ও পারস্পরিক আস্থা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রয়েছে বলেও জোর দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবে বা বজায় রাখবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। একইভাবে ভারতও নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অধিকার রাখে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ভারত জানিয়েছে, অনুরোধটি প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সর্বশেষ দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যেও সেই আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে; তবে কবে নাগাদ এর নিষ্পত্তি হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে