×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনার ফেরার আগেই দিল্লি খেলছে নতুন কার্ড 

২০২৬ অক্টোবর ০১ ০৮:২৬:০৭
হাসিনার ফেরার আগেই দিল্লি খেলছে নতুন কার্ড 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। ফলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘অ্যাবসোলিউটলি পজিটিভ’ বা ‘পুরোপুরি ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য ভারতের আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে এবং দুই দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে সফরটি হতে পারে। তিনি সফরের বিষয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এর আগে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশ নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। এখনো সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

সফরটি চূড়ান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিদ্যমান ইস্যুটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করে আসছে। অন্যদিকে ভারত বিষয়টি বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও এর প্রয়োগ নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনা গত আগস্টে দিল্লি থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তিনি বলেন, দেশে ফিরে জনগণের পাশে থাকতে চান এবং প্রয়োজনে আদালতের মুখোমুখি হবেন। তার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বক্তব্য থাকলেও বাস্তবে তিনি কখন এবং কী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা হয়নি।

শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়টি অবশ্য আইনি বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ফলে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি সামনে থাকবে।

অন্যদিকে, ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসেছিলেন—এমন খবর সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হলেও ভারত ও বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সফরটি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। তাই এই সফরকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ থেকে দেখা যাচ্ছে, দুই দেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সফরের আমন্ত্রণ বহাল থাকার কথা বলা হয়েছে, আর ঢাকার পক্ষ থেকে সফরের সময়সূচি ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ফলে একদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা—দুটি বিষয়ই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে অজিত ডোভালের কথিত সফর, তারেক রহমানের সফরের সম্ভাব্য সময় কিংবা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া—কোনোটিকেই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—তারেক রহমানের দিল্লি সফর কবে হবে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান কীভাবে এগোবে এবং এসব বিষয় সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে