×
ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাজারে প্রাণ ফেরাতে বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা জরুরি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৬:০৩:১৬
বাজারে প্রাণ ফেরাতে বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সূচকে উত্থান-পতন থাকলেও শেয়ারবাজারের লেনদেনে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না। পতনের সময় যেমন সূচকের নড়াচড়া সীমিত থাকছে, তেমনি ঊর্ধ্বমুখী দিনেও বাজারে দেখা যাচ্ছে না প্রত্যাশিত গতিশীলতা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো শেয়ারবাজারে সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর সমানভাবে অংশগ্রহণ না থাকা।

তাদের ভাষ্য, বর্তমানে সাধারণ বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে বাজারের লেনদেন। কিন্তু শুধু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় একটি টেকসই ও প্রাণবন্ত শেয়ারবাজার তৈরি করা সম্ভব নয়। বাজারে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় পুঁজির বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়লে বাজারে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে লেনদেনে গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। এজন্য এসব বিনিয়োগকারীর বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক বাড়ার পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও বেড়েছে।

বাজারের দৈনিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬.০৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫০.৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৪.৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০২.৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ১৩.৭৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৮.৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৩০টির দর কমেছে এবং ৬৭টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টাকার অঙ্কেও এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারটিতে প্রায় ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বুধবার মোট ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

সিএসইতে এদিন মোট ১৮২টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৭৪টির দর কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১.৯৬ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮১৪.৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিনও সূচকটি ৫.০২ পয়েন্ট কমেছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সামগ্রিকভাবে সূচক ও লেনদেনে কিছুটা ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও বাজারের স্থায়ী গতি ফেরাতে বিনিয়োগকারীদের সব শ্রেণীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা নিয়মিতভাবে বাজারে সক্রিয় হলে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি শেয়ারবাজারে কাঙ্ক্ষিত প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসতে পারে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে