×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদালতে উঠে এলো মরিয়মকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ০০:০২:৫৪
আদালতে উঠে এলো মরিয়মকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নজরুল ইসলাম প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে মাঝে মাঝে শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে রাত কাটাতে হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল বলেছেন, মামলার বাদী তার পূর্বপরিচিত এবং সম্পর্কে ভাগিনা। বাদীর মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ঢাকায় এলে তিনি ওই ব্যক্তির বাসায় থাকতেন এবং সেখান থেকেই সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৬ জুন মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন নজরুল ইসলাম। পরে ওই তারিখ দেখিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করে কাবিননামা করা হয়। বিয়ের পর মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসা হলেও তাকে স্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হতো না বলে আদালতকে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাম ভবনের শয়নকক্ষে প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে নিয়ে থাকতেন নজরুল। আর মরিয়মকে মাঝে মাঝে পাশের বেলকনিতে রাত কাটাতে হতো। তদন্তে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের তথ্য পাওয়ার কথাও আদালতকে জানানো হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ন্যাম ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল মামলার বিষয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে আদালতকে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

পরে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুনুর রশিদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের পরিস্থিতির মধ্যে মরিয়ম বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এর জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন—রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এটি তদন্তসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

অন্যদিকে নজরুল ইসলামের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মামলায় নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য, পারিবারিক অভিমানের কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

আইনজীবী আরও বলেন, নজরুল একজন সংসদ সদস্য, আইনপ্রণেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত এবং পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তার সংসদীয় ও অন্যান্য দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সে সময় ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুটও উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

ঘটনার পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাকছুদাও এক দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে