×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮০’র দশকের ট্রেন্ডের ছবি বানানো ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২০:২০:১০
৮০’র দশকের ট্রেন্ডের ছবি বানানো ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে ছবি তৈরির প্রবণতা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে ৮০-এর দশকের আবহ, পুরোনো সিনেমার দৃশ্য কিংবা ভিন্ন সময়ের সাজ-পোশাকে নিজেদের ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন অনেকে। তবে বিনোদনের জন্য AI প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমানে এ ধরনের ছবি তৈরিতে ChatGPT-সহ বিভিন্ন AI সেবা ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি আপলোড করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে AI সেটিকে পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত সময়কাল, পোশাক বা পরিবেশের আদলে নতুন ছবি তৈরি করতে পারে। ফলে সহজেই আকর্ষণীয় ছবি তৈরি করা সম্ভব হলেও এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের বিষয়টিও জড়িত।

সম্প্রতি AI এজেন্ট ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। OpenAI সেপ্টেম্বরে AI সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত বা অননুমোদিত আচরণ নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশের একটি কাঠামো চালুর কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি এমন ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ভুল লুকানোর চেষ্টা এবং অননুমোদিত ওয়েব যোগাযোগের মতো আচরণও ছিল।

এদিকে AI-ভিত্তিক ছবি তৈরির প্রযুক্তিও দ্রুত উন্নত হচ্ছে। OpenAI ৮ সেপ্টেম্বর ChatGPT Images 2.5 চালু করেছে, যেখানে ছবি তৈরি ও সম্পাদনার পাশাপাশি টেমপ্লেট ব্যবহার এবং বিদ্যমান ছবিতে পরিবর্তনের মতো সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

ব্যক্তিগত ছবি AI সেবায় দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগের একটি হলো ব্যবহারকারীর তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ বা ব্যবহার করা হচ্ছে। ছবি ছাড়াও কোনো সেবায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মেটাডেটা বা অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য যুক্ত থাকতে পারে। তাই কোনো প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত ছবি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতি ও ডেটা ব্যবহারের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ।

OpenAI-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ChatGPT ব্যবহারকারীরা তাদের তথ্য মডেল উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক বা এন্টারপ্রাইজ সেবায় গ্রাহকের তথ্য মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার না করার নীতিও রয়েছে। তবে ব্যবহারকারীদের নিজেদের তথ্যের ধরন ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে AI সেবা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরেকটি জায়গা হলো AI এজেন্টের সক্ষমতা। বর্তমানে কিছু AI সিস্টেম শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা ছবি তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারে। এ ধরনের সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ নিয়ে OpenAI নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ও নজরদারি কাঠামো জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে AI দিয়ে ছবি তৈরি করলেই ব্যক্তিগত তথ্য অনিবার্যভাবে ফাঁস হয়ে যাবে। বরং ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে কোন তথ্য দেওয়া হচ্ছে, কোন সেবায় দেওয়া হচ্ছে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতির ওপর।

তাই AI দিয়ে ছবি তৈরির জনপ্রিয় এই ট্রেন্ড উপভোগ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং তথ্য, ব্যক্তিগত নথি, ঠিকানা বা অতিরিক্ত সংবেদনশীল তথ্যযুক্ত ছবি AI প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক হওয়া উচিত। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের ডিজিটাল তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর

উ
প
রে