×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৪:৫৮:২৩
শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে উত্থান-পতনের দায় এককভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপিয়ে দিলে বাজারের প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। বাজারকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী—সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বাজার যখন ঊর্ধ্বমুখী থাকে তখন এর পুরো কৃতিত্ব যেমন নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেওয়া ঠিক নয়, তেমনি বাজারে পতন দেখা দিলেই সব ব্যর্থতার দায়ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপানো সঠিক নয়। বাজারের স্বাভাবিক গতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার একক প্রচেষ্টায় শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য বাজারের প্রতিটি স্তরে কার্যকর নজরদারি, দায়িত্বশীল লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে শুধু কোম্পানি নয়, ক্রেতাকেও নজরদারিতে আনার দাবি

তাদের মতে, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য যথাযথ নজরদারি জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে সার্ভিল্যান্স বিভাগের দায়িত্ব এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে টানা বাড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে যেসব বিনিয়োগকারী ধারাবাহিকভাবে ওই শেয়ার কিনে সেটিকে অতিমূল্যায়িত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরও নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

একইভাবে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে সেই পতন ঠেকিয়ে বাজারকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন তারা।

তাদের মতে, বিনিয়োগকারীদেরও অতিমূল্যায়িত দরে শেয়ার কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি বাজারে দরপতন দেখা দিলে আতঙ্কিত হয়ে শুধু শেয়ার বিক্রি না করে ক্রয়ের পরিমাণও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

পতনের বাজারে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ লেনদেন

এদিকে, আজ ২৮ সেপ্টেম্বর সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধানসহ সব সূচক কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দিনের বাজার পরিস্থিতিকে এককভাবে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক বা গতানুগতিক ওঠানামারই অংশ। তবে বাজারের এই ওঠানামাকে আরও স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তাদের মতে, দিনের লেনদেন শুরুর দিকে সূচকের অবস্থান মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। মূলত শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়লেই সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু বাজারে পতনের আভাস দেখা দিলেই অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনা কমিয়ে দেন, যা বাজারে আরও নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়ে যায়। তবে শুধু উত্থানের সময় শেয়ার কেনা নয়, বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি ক্রয়ের ধারাও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুজবে নয়, তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগ

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে গুজবের ওপর নির্ভর করা থেকে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে ওই কোম্পানির ব্যবসা, আর্থিক অবস্থা, আয়, সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, কোম্পানি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য জেনে ও বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করলে পুঁজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুনাফা অর্জনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

কমেছে ডিএসইর প্রধান সূচক

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৩ দশমিক ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২২৪টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১৯ কোটি টাকা

দিনের লেনদেনে সূচক ও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমলেও ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।

আজ ডিএসইতে প্রায় ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা।

সিএসইতেও সূচক ও লেনদেনে পতন

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ মোট ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৯৮টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৭৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে সিএএসপিআই সূচক কমেছিল ১২৮ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে