×
ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানি সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৯:৩৭:৫৫
পাকিস্তানি সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পাল্টা মন্তব্যের পর তিনি ও ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন। ঘটনাটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিরোধকে আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সামনে নিয়ে এসেছে।

শুক্রবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার কবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’ এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলনের স্থান ত্যাগ করেন। ভারতের জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতনেনি সাংবাদিককে বলেন, তিনি তার প্রশ্নের উত্তর শুনেছেন।

এই ঘটনার আগের দিনও জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে একজন ভারতীয় সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের ঘিরে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে প্রশ্নোত্তর ও পাল্টা বক্তব্যের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত বা সেখানে আশ্রয় পাওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ করে থাকে। দুই দেশের এসব অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের অনেকটাই পরস্পরবিরোধী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর নিজস্ব বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল।

এর পেছনে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছিল, ওই হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হন এবং হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানায়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলার নিন্দা করে ভারত ও পাকিস্তানকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ে। জাতিসংঘ তখন দুই দেশকে সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানায়। গুতেরেস সতর্ক করেছিলেন, পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতে রূপ নিলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক জাতিসংঘ অধিবেশনে জয়শঙ্করের সঙ্গে পাকিস্তানি সাংবাদিকের এই উত্তপ্ত কথোপকথন সেই দীর্ঘদিনের বিরোধেরই নতুন প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে জাতিসংঘের মঞ্চে এমন প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কাশ্মীরসহ নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর জটিলতাকেও আবার সামনে এনেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে