×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমেরিকায় বাংলাদেশের ক্ষমতা টের পেল ভারত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ১৫:১১:৫২
আমেরিকায় বাংলাদেশের ক্ষমতা টের পেল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নতুন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি এখন দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন স্বার্থ ও নীতিগত বিষয়ে মতপার্থক্যও সামনে আসছে। একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমুখীকরণের প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।

তবে এটিকে ভারত থেকে সম্পূর্ণ সরে যাওয়ার নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়েও বাংলাদেশ ও ভারত বিমান চলাচল, আকাশসীমা ব্যবহার ও এভিয়েশন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে। দুই দেশ বিদ্যমান এয়ার সার্ভিস চুক্তি সংশোধন এবং ‘ওপেন স্কাই’ নীতি নিয়েও আলোচনা করেছে।

জনমতে ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের জনমতে ভারত ও পাকিস্তানকে ঘিরে পরিবর্তনের কিছু ইঙ্গিত সাম্প্রতিক জরিপে পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে Gallup Pakistan-এর একটি জরিপে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের সময় বাংলাদেশের ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। ২০ শতাংশ কোনো পক্ষের প্রতি সহানুভূতি জানাননি এবং ৯ শতাংশ ভারতের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। জরিপটির প্রশ্ন ছিল ওই সংঘাতের সময় কোন পক্ষের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে সহানুভূতি ছিল—তাই এটিকে বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির পছন্দের সরাসরি মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের Pew Research Center-এর জরিপে বাংলাদেশের ৫৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পাকিস্তান সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। একই জরিপে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন ৪২ শতাংশ বাংলাদেশি। ২০২৪ সালের তুলনায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে এবং পাকিস্তানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৪ শতাংশ হয়েছে। জরিপটি ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ হাজার ৪৪ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

বহুমুখী কূটনীতির দিকে ঢাকা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমুখী যোগাযোগের আরেকটি দৃষ্টান্ত সাম্প্রতিক বোয়িং চুক্তি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য সম্পূরক চুক্তি করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।

এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত কোনো বাইরের চাপের কারণে নয়; দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের বিমানবহর সম্প্রসারণ এবং দেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ একদিকে ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখছে, অন্যদিকে অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী অবস্থান তৈরির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়েও ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে।

সামনে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, যোগাযোগ, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানুষের চলাচলের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটিকে ভারত-বিরোধী অবস্থান হিসেবে সরলীকরণ করার বদলে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য তৈরির বৃহত্তর প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়। একই সঙ্গে জনমতের পরিবর্তনও দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জরিপের ফলাফলকে পুরো দেশের একক বা অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করা সমীচীন নয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে