×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্য সহজীকরণে বড় উদ্যোগ, ডব্লিউটিওর শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ১২:৩৫:৪৩
বাণিজ্য সহজীকরণে বড় উদ্যোগ, ডব্লিউটিওর শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্য সহজীকরণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নির্ধারিত শর্ত ও পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পণ্য চালান খালাসে সময় ও ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউটিওর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত মোট ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি ‘এ’-এর ২১টি এবং ক্যাটাগরি ‘বি’-এর ১৮টি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউটিওকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ক্যাটাগরি ‘সি’-এর ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে ৮টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি সাতটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে অবশিষ্ট পদক্ষেপগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়।

এ লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনমুখী ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যব্যবস্থার আরও গভীর ও টেকসই সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ, সিইপিএ বা পিটিএ চুক্তি চূড়ান্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে উন্নতি, দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মী বাহিনী গড়ে তোলা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবা একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোতে ইতোমধ্যে ১৯টি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে। আরও ১৮টি সরকারি দপ্তরকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। পুরো ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য পৃথক ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট’ গঠনের কাজও এগিয়ে চলছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএস আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে কম ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য দ্রুত খালাসের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এএইও) সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাস ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন বন্দরে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং বিদ্যমান সুবিধা আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

মোংলা বন্দরে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরামর্শক সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরেও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্তে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে বর্ডার এজেন্সি কোঅপারেশন-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে এবং বিষয়টি ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করা, পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতাভুক্ত সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে