×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়ায় ৮ মার্কিন নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, সামনে এলো কারণ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১০:৩৩:৩৯
ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়ায় ৮ মার্কিন নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, সামনে এলো কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আট সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও। মার্কিন কংগ্রেসকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এ তথ্য জানান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হাতে আসা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের জাহাজগুলো সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় এসব ঘটনা ঘটে। তবে চিঠি অনুযায়ী, এসব ঘটনায় কোনো নৌসদস্যের মৃত্যু হয়নি।

সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের প্রশ্নের জবাবে হাং কাও জানান, লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান শাখা, স্ট্রাইক গ্রুপ, ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাহাজ ও বিমান ইউনিটের সদস্যরা ছিলেন।

লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রাখা হয়েছিল। এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার নৌসদস্য কয়েকটি জাহাজে দায়িত্ব পালন করেন।

হাং কাওয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে পুরো মার্কিন নৌবাহিনীতে মোট ৩৫৬টি আত্মহত্যার চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছিল। ওই বছর সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নৌসদস্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার। সামগ্রিক নৌবাহিনীর হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলে লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের ঘটনাগুলোর হার খুব বেশি বিচ্যুত নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, আটটি ঘটনা একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের সময় বছরে সাধারণত এক বা দুটি এমন ঘটনা দেখা গেছে।

ওই কর্মকর্তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা, বন্দরে নিয়মিত না থামা এবং দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় থাকার কারণে নাবিকদের ওপর স্বাভাবিক মোতায়েনের তুলনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে নৌসদস্যদের মানসিক ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিভিন্ন পেশাজীবীও নিয়োজিত ছিলেন। হাং কাওয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে পাঁচজন ধর্মীয় কর্মকর্তা, একজন পরামর্শক, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী এবং তিনজন আচরণগত স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। পাশাপাশি একটি প্রশিক্ষিত কুকুরও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় ব্যবহৃত হতো।

এর আগে লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের দুই নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনকেই উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ছাড়া অন্য কয়েকজন নাবিককে এমন পরিস্থিতি থেকে বিরত রাখার ঘটনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হাং কাও জানান, আগস্টের শুরুতে বিমান শাখার একজন নাবিক সমুদ্রে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জাহাজের চিকিৎসা বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আরেক ঘটনায় একজন নাবিক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়লে সহকর্মীরা তাকে থামান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে মার্কিন নৌবাহিনী সিএনএনকে জানিয়েছিল, লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপে আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টার ঘটনা সামগ্রিকভাবে বেড়ে গেছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। নৌবাহিনী জানিয়েছে, সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, ধর্মীয় ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার সঙ্গে আত্মহত্যার চিন্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে নৌবাহিনী পৌঁছেনি। একইভাবে জাহাজ থেকে নাবিক পড়ে যাওয়ার ঘটনাও শুধু লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে লিংকনের একজন নাবিক সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহাজে মনোবল কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে আলোচনা শুনেছেন তিনি।

দীর্ঘ সময় যুদ্ধের দায়িত্বে থাকা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ সীমিত হওয়া এবং দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা নাবিকদের জন্য চাপের কারণ হয়ে উঠেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জাহাজে দৈনন্দিন কিছু সুবিধা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও সমস্যার কথা এক নাবিক জানিয়েছেন।

লিংকন ক্যারিয়ার আগস্টে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে নিজ ঘাঁটিতে ফেরার কথা রয়েছে।

লিংকনের নাবিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের মোতায়েনের তুলনায় এবারের পরিস্থিতির অন্যতম বড় পার্থক্য ছিল সরাসরি যুদ্ধ অভিযান। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের বন্দরে নিয়মিত থামার সুযোগ কম থাকায় বিশ্রাম, সরবরাহ ও স্বাভাবিক বিরতির সুযোগও সীমিত ছিল। তবে এসব কারণ ও নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে