×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ-পাক প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, লজ্জায় পড়লো ভারত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১০:০৮:১০
বাংলাদেশ-পাক প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, লজ্জায় পড়লো ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট ভবনে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে শেহবাজ শরিফ দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও অর্থবহ সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

এই বৈঠকের সময় ও প্রেক্ষাপটের কারণে ভারতের অবস্থান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। ফলে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে কেউ কেউ বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

তবে এ বৈঠককে কেন্দ্র করে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ‘উদ্বেগ’ বা ‘অস্বস্তি’ প্রকাশ করেছে—এমন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ভারত ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ রাখতে চায় এবং বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে দুই দেশের সব দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নিউইয়র্কে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল সে সময় কোনো তথ্য নেই বলে জানান। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে কেন্দ্র করে ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকায় তার কার্যক্রম শুরু করেন। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা চলছে।

এর আগে ভারত জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরে রণধীর জয়সোয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক সফর সম্পর্কে তখনো ঢাকার কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য নয়াদিল্লি পায়নি। পরবর্তী সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নভেম্বরের দিকে সম্ভাব্য সফরের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এ অবস্থায় নিউইয়র্কে তারেক রহমান ও শেহবাজ শরিফের বৈঠক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য কীভাবে এগোয়, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়। তবে কোনো একটি বৈঠক থেকেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নির্দিষ্ট দিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই যুক্তিসংগত নয়।

বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে কী আলোচনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তার কোনো বাস্তব ফলাফল দেখা যায় কি না—সেটিই বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ বোঝার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে