×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আট মাসেই তাপমাত্রায় বড় উল্লম্ফন, সামনে আরও বড় সতর্কবার্তা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ০৮:৪৩:৩৭
আট মাসেই তাপমাত্রায় বড় উল্লম্ফন, সামনে আরও বড় সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তনের কারণে জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান তাপমাত্রার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরটি ইতিহাসের উষ্ণতম বছরগুলোর একটি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য আবহাওয়ার ধরনে আরও বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট ছিল অত্যন্ত উষ্ণ একটি মাস। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ বছর আগস্টের তাপমাত্রা জুলাইয়ের তুলনায়ও বেশি ছিল। সাধারণত জুলাইকে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ মাসগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চলতি বছরের পরিস্থিতিতে আগস্টের উষ্ণতা বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়সের মতে, শুধু স্থলভাগ নয়, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরজুড়েও উষ্ণতার বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এল নিনো শক্তিশালী হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরকেন্দ্রিক একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রবাহ। সাধারণত কয়েক বছর পরপর এর উষ্ণ দশা দেখা যায়। এ সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।

সমুদ্রের বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডল ও বৈশ্বিক আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আবার কোথাও খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে এবং এর তীব্রতা ও স্থায়িত্বও একেকবার একেক রকম হয়।

প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে থাকলে চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি বরফ গলে যাওয়া এবং সমুদ্রের পানির তাপীয় প্রসারণের কারণে দীর্ঘমেয়াদে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়তে পারে।

উচ্চ তাপমাত্রার কারণে মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি, পানির প্রাপ্যতা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমের সময় শ্রমঘণ্টা কমে যাওয়া এবং ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন।

তবে কোনো নির্দিষ্ট বছর কতটা উষ্ণ হবে, তা শুধু এল নিনোর ওপর নির্ভর করে না। দীর্ঘমেয়াদি মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা, প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রবাহ এবং আঞ্চলিক আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান একসঙ্গে এর ওপর প্রভাব ফেলে।

ফলে চলতি বছরের উষ্ণতা এবং সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের দেশগুলোর প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে