×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘জার্নালিজম’ শিখাতে গিয়ে হাসির পাত্র ভারত 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৬:৩২:১৩
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘জার্নালিজম’ শিখাতে গিয়ে হাসির পাত্র ভারত 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতের দেওয়া একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের হাইকমিশন ঢাকার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ‘Journalism and Public Relations’ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা (ITEC) প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হচ্ছে।

হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণটি আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি, অর্থ, বাণিজ্য ও জ্বালানি বিষয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে কর্মসূচিটি তৈরি করা হয়েছে। এতে মিডিয়া রিলেশন, কৌশলগত যোগাযোগ, গণমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচিতে নির্বাচিত সাংবাদিকদের যাতায়াত, প্রশিক্ষণ ফি, থাকা ও জীবনযাত্রার খরচ ভারত সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে। পাঁচ থেকে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিতদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দিতে হবে।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অন্য একটি দেশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পেশাগত সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের গণমাধ্যমের একটি অংশের পেশাগত ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিভিন্ন ঘটনা, কৃষক আন্দোলন ও বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর মতো বিষয় কাভার করার ক্ষেত্রে কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, অতিরঞ্জন বা ভুল তথ্য ছড়ানোর যে অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে, সেগুলোকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে সামগ্রিকভাবে ভারতের সব সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের তরুণ সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার বিষয়টি। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবের পরিবর্তে তথ্য যাচাই, পেশাগত নৈতিকতা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ভারতের ঘোষিত কর্মসূচির বিবরণে এটিকে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি শেখানোর কোনো বাধ্যতামূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আর্থিক বিষয় কভার করা সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি সক্ষমতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ হিসেবে কর্মসূচিটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতপার্থক্য রয়েছে। একই সময়ে দুই দেশ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ২২ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ভারত সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনায় প্রস্তুত এবং সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নিতে চায়।

ফলে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি একদিকে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে, অন্যদিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত সক্ষমতার প্রশ্নে এটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এ ধরনের উদ্যোগের মূল্যায়নে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, অংশগ্রহণের শর্ত, আয়োজকের উদ্দেশ্য এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে