×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী টাকা!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৮:০৪:১৬
৫ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়া এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতির প্রভাবে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়মূল্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে কয়েক বছর দুর্বল থাকার পর বর্তমানে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে দেশের মুদ্রা। একই সঙ্গে ভারতীয় রুপির বিপরীতেও গত এক বছরে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়মূল্য বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে টাকা। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট হিসাবে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। এরপর চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের বিপরীতে টাকার যে অবমূল্যায়নের প্রবণতা ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তাতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। এরপর বিভিন্ন সময়ে ডলারের দাম বাড়তে বাড়তে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে ডলারের বিনিময় হারে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় রুপির বিপরীতেও বাংলাদেশি টাকা গত এক বছরে শক্তিশালী হয়েছে। একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।

তবে বাংলাদেশি টাকার এই শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে শুধু টাকার নিজস্ব মূল্যবৃদ্ধিই দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে ভারতীয় রুপি আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশি টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। ফলে ডলার-রুপির বাজারে পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে টাকা-রুপির বিনিময় হারেও।

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডলারের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য—এসব বিষয় টাকার বিনিময়মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে এর গতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে দেশের বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে