×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবার তারেক ম্যাজিক: ১৭ হাজার কোটির সেতু মাত্র ৫ হাজারে 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ০৯:৪৩:৫২
আবার তারেক ম্যাজিক: ১৭ হাজার কোটির সেতু মাত্র ৫ হাজারে 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে নতুন একটি বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরিশালের রহমতপুর থেকে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সড়কপথে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্ত ও সংবাদ প্রতিবেদনে এ রুটে নতুন সড়কের পাশাপাশি তিনটি সেতু নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

এর আগে বরিশাল-ভোলা সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর দীর্ঘ সেতু নির্মাণের একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রকল্পে প্রায় ১০ দশমিক ৮৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদনও পেয়েছে।

তবে বিকল্প হিসেবে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগে তুলনামূলক কম ব্যয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পথে প্রায় ২১ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক এবং মোট প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি সেতু নির্মাণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সড়ক ও সেতু নির্মাণ মিলিয়ে ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এই বিকল্প রুট বাস্তবায়িত হলে ভোলা থেকে মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা ও রহমতপুর হয়ে বরিশাল এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা অভিমুখে সড়ক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ফেরি বা নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমতে পারে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ভোলার অর্থনীতি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কৃষিপণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলার গ্যাসসম্পদসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে ভোলার মানুষের মধ্যে ভিন্ন মতও রয়েছে। ‘আমরা ভোলাবাসী’ নামের একটি সংগঠন সরাসরি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিকল্প সড়ক প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরাসরি দীর্ঘ সেতু নাকি বিকল্প মহাসড়ক—কোন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট সমাধানে দুটি ভিন্ন অবকাঠামোগত ধারণা সামনে রয়েছে—একদিকে বড় ব্যয়ের সরাসরি ভোলা-বরিশাল সেতু, অন্যদিকে তুলনামূলক কম ব্যয়ে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে সড়ক করিডোর। কোন প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে, তার ওপর নির্ভর করবে ভোলার সঙ্গে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ কাঠামো।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে