×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির

স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধের ঘোষণা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৫:৩২:২২
স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর স্কুলব্যবস্থায় একীভূত হতে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে, তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বাধ্যবাধকতা আনার প্রস্তাবও রয়েছে।

রোববার ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি তার দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

মেলোনির ঘোষিত প্রস্তাবে প্রতিটি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন, সেই সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এ সীমা কত শতাংশ বা কতজন হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাননি। ইতালির স্কুলে বর্তমানে ইতালীয় নাগরিক নন—এমন শিক্ষার্থীর হার প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও সামাজিকভাবে একীভূত হওয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেলোনির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর স্কুলব্যবস্থায় মানিয়ে নিতে গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। সরকারের যুক্তি হলো, ভাষাগত দক্ষতা বাড়লে শিক্ষার্থীদের স্কুলে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

বোরকা ও নেকাবের বিষয়ে মেলোনি বলেছেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে। তাঁর ঘোষণায় বোরকা ও নেকাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি হিজাব নিষিদ্ধ করবে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে একই ধরনের স্পষ্টতা নেই।

তবে এসব ঘোষণা এখনো চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি। ইতালির সরকার প্রস্তাবটি অনুমোদন করার পর তা সংসদীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ এবং বাস্তবায়নের নিয়ম পরে পরিবর্তিত হতে পারে।

এদিকে ইতালিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার বিষয়ে আগে থেকেই একটি প্রশাসনিক নির্দেশনা রয়েছে। ২০১০ সালের একটি মন্ত্রণালয়-নির্দেশনায় সাধারণভাবে একটি শ্রেণি বা স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যাগত বাস্তবতার কারণে এই সীমা সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি।

মেলোনির নতুন উদ্যোগের ফলে ইতালির স্কুলে ধর্মীয় পোশাক, অভিবাসন এবং শিক্ষার্থীদের একীভূত করার নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত হওয়া বিধানের ওপর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে