×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ মিনিটে ঘুরে আসুন ৩ জেলা, বাংলাদেশেই আছে অবাক করা এই জায়গা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১১:৪৭:২৩
৫ মিনিটে ঘুরে আসুন ৩ জেলা, বাংলাদেশেই আছে অবাক করা এই জায়গা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে এমন একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটাপথে তিনটি জেলা ঘুরে দেখা যায়। কোনো জটিল যাতায়াতের প্রয়োজন নেই—একটি নদীর তীর ধরে হাঁটলেই অল্প সময়ের মধ্যে বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার সীমানায় পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

তিন জেলার এই মিলনস্থলটি রয়েছে হলতা নদীকে ঘিরে। বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরা, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের দেবত্র এবং ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পাতাকাটা ইউনিয়নের জোরখালি গ্রামের সীমানা এসে মিলেছে হলতা নদীর আশপাশে।

স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি শুধু তিন জেলার সীমানা নয়, বরং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতিরও একটি অনন্য উদাহরণ। তিন এলাকার মানুষ নিয়মিত একে অন্যের এলাকায় যাতায়াত করেন, বাজার করেন, আড্ডা দেন এবং নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, বরগুনার লক্ষ্মীপুরা খালের সেতু পার হয়ে পিরোজপুরের দাউদখালী ইউনিয়নে যাওয়া যায়। সেখান থেকে হলতা নদীর পাড় ধরে প্রায় দুই মিনিট হাঁটলেই ঝালকাঠির জোরখালি গ্রামে পৌঁছানো যায়।

অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই একজন ভ্রমণকারী তিন জেলার ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ঘুরে আসতে পারেন। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়গাটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যেও এটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এই এলাকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো—তিন জেলার শিক্ষার্থীরা একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে।

হলতা নদীর তীরে রয়েছে রাজারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজারহাট শহীদ বাচ্চু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় দুটিতে বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে।

একই শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করতে গিয়ে তিন জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে। পাশাপাশি তারা নিজেদের এলাকার সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও ঐতিহ্য সম্পর্কে একে অন্যের কাছ থেকে জানতে পারছে।

বরগুনার বাসিন্দা মিলন মোর্শেদ বলেন, তিন জেলার সীমানা কাছাকাছি হওয়ায় তারা খুব সহজেই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারেন। সন্ধ্যার পর আড্ডা দিতে বা প্রয়োজনীয় কাজে অনেকে পাশের জেলায় চলে যান।তার ভাষ্য, দূরত্ব কম হওয়ায় এক জেলার মানুষ অন্য জেলায় গিয়ে বাজার-সদাই করেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে জায়গাটি দেখতে আসেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহবুব মোল্লাও জানান, মিনিটের ব্যবধানে তারা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করেন। তার দোকানে তিন জেলার মানুষই কেনাকাটা করতে আসেন এবং সময় কাটান।

রাজারহাট শহীদ বাচ্চু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম জানান, তাদের বিদ্যালয়ে তিন জেলার শিক্ষার্থী রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তিন জেলার এলাকায় যাওয়া যায়—বিষয়টি তাদের কাছে বেশ আনন্দের।তার মতে, তিন জেলার শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করায় তারা নিজেদের এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে পরস্পরের কাছ থেকে জানতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহির খান বলেন, তার বিদ্যালয়ে তিন জেলা ও তিন ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। তিন এলাকার সংস্কৃতিতে কিছু পার্থক্য থাকলেও শিক্ষার্থীরা মিলেমিশে থাকে এবং নিজেদের সংস্কৃতি একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।

হলতা নদীর তীরবর্তী এই এলাকা তাই শুধু ভৌগোলিকভাবে তিন জেলার কাছাকাছি অবস্থানের জন্য নয়, মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কারণেও বিশেষ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতি, নদী আর তিন জেলার সীমানাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই স্থানটি স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও হয়ে উঠছে আকর্ষণীয়।

কেএইচ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে