×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৫ মিনিটের প্রটোকল ভেঙে জাতিসংঘ কাঁপিয়েছে যে নেতারা!   

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ০৯:৫২:৪০
১৫ মিনিটের প্রটোকল ভেঙে জাতিসংঘ কাঁপিয়েছে যে নেতারা!   

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বিশ্বনেতাদের বক্তব্য দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। সাধারণ বিতর্কে বক্তব্যের সময় সীমিত রাখার প্রচলন থাকলেও ইতিহাসে কয়েকজন নেতা সেই সীমা অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছেন। কারও দীর্ঘ বক্তৃতা হয়েছে রেকর্ড, আবার কারও বক্তব্য বা আচরণ তৈরি করেছে ব্যাপক আন্তর্জাতিক আলোচনা। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনকে সামনে রেখে এমনই কয়েকটি আলোচিত মুহূর্ত নতুন করে সামনে এসেছে।

১৯৬০ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ সাধারণ পরিষদে প্রায় ১৪০ মিনিট বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের নিজস্ব রেকর্ডেও তাঁর ওই বক্তব্যের সময় ১৪০ মিনিট হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। সে সময় তিনি উপনিবেশবাদসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সোভিয়েত অবস্থান তুলে ধরেন।

একই বছর জাতিসংঘের মঞ্চে আরও দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেন কিউবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফিদেল কাস্ত্রো। ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬০ সালে তাঁর বক্তব্য চলে ২৬৯ মিনিট, অর্থাৎ প্রায় ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এটিই সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ডকৃত বক্তব্য। ওই ভাষণে কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজের বক্তব্যও জাতিসংঘে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আগের দিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চাভেজ তাঁকে ‘শয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জাতিসংঘের মঞ্চে মার্কিন নীতির সমালোচনা করেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতেও তাঁর বক্তব্যে ওই মন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

২০০৯ সালে লিবিয়ার তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ভাষণও ছিল ব্যতিক্রমী। জাতিসংঘের রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্যের সময় ছিল প্রায় ৯৬ মিনিট। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো ও স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং জাতিসংঘের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দীর্ঘ বক্তব্য সেই অধিবেশনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও তৎকালীন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন এবং দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দেন। ওই বক্তব্যের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে এমন ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।

এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিভিন্ন জাতিসংঘ ভাষণও আলোচিত হয়েছে, বিশেষ করে বক্তব্যের সময় মানচিত্র ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার ব্যবহারের কারণে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে দেখা যায়, সাধারণ পরিষদের মঞ্চ শুধু কূটনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়; অনেক সময় বিশ্বনেতারা এখানেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক বিরোধ সরাসরি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তাই আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে। ৮১তম সাধারণ অধিবেশন ঘিরে বিশ্বনেতাদের নতুন বক্তব্যের অপেক্ষার মধ্যেই অতীতের দীর্ঘ ও আলোচিত ভাষণগুলোও মনে করিয়ে দিচ্ছে—কয়েক মিনিটের বক্তব্যও কখনো কখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে