×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব-সম্পদের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৬:৪৫:১৭
আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব-সম্পদের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী পান্নার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেল কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এরই অংশ হিসেবে তাঁর, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে থাকা চলমান, বন্ধ ও সুপ্ত হিসাবের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণ হিসাবসংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব এবং অর্থ পাচার ও শেল কোম্পানি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ করা হয়েছে। এসব দেশের সংশ্লিষ্ট আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে বিএফআইইউর কাছে আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধান চলাকালে আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে দুদক। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য, তিনি দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে।

দুদক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবিও রয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে