×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডলার বন্ডের পথে বাংলাদেশ, বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ার উদ্যোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৫:০৬:১৪
ডলার বন্ডের পথে বাংলাদেশ, বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে সার্বভৌম ডলার বন্ড ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ বন্ডের মাধ্যমে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে বন্ডের চূড়ান্ত আকার ও ইস্যুর শর্ত এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন অলটারনেটিভ ফাইন্যান্সিং কমিটির কাছ থেকে বন্ডের আকার ও ইস্যুর শর্তাবলির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি ইস্যু করার আশা করছে সরকার। কমিটি গঠনের পর এ বিষয়ে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, বিদেশি পুঁজিবাজারে ডলার বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তার মতে, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বন্ড ইস্যু করা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি পর্যালোচনা এবং অর্থায়নের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার উপায় সুপারিশ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। আট সদস্যের এই কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা।

কমিটি ভবিষ্যতে বন্ডের আকার, মুদ্রা, বাজার, মেয়াদ, সুদের কাঠামো, ইস্যুর সময় এবং অন্যান্য আর্থিক ও কারিগরি বিষয়ে সুপারিশ করবে। পাশাপাশি উদীয়মান দেশগুলোর সরকার ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক বন্ডের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত জেপি মরগানের বেঞ্চমার্ক ইমার্জিং মার্কেটস বন্ড ইনডেক্সে (ইএমবিআই) অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতার বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে যোগ্য ঋণপত্রের বকেয়া অভিহিত মূল্য ৫০ কোটি ডলারের বেশি হওয়ার শর্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করেনি। তবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ নিয়ে আসছে। সরকারের নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অর্থায়নের উৎস আরও বহুমুখী করা এবং আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা।

ডলার বন্ডের পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রা ও কাঠামোর বন্ড নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে সুকুক, পান্ডা, সামুরাই, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ডায়াসপোরা বন্ড। তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেছেন, ডলারে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য মুদ্রায় বন্ড ইস্যুর পথও সহজ হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

এদিকে পান্ডা বন্ড নিয়েও সরকারের আলোচনা চলছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে বাংলাদেশকে পান্ডা বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব দেয় চীন সরকার। এ বিষয়ে চীনের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে পান্ডা বন্ড চালুর উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতির কথা জানানো হয়।

চলতি মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অলটারনেটিভ ফাইন্যান্সিং কমিটির বৈঠকেও পান্ডা বন্ডসহ বৈদেশিক মুদ্রায় সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ৫ কোটি ডলারের পান্ডা বন্ড ইস্যুর বিষয়ে প্রাথমিক সমর্থন জানান। তবে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী সম্ভাব্য পান্ডা বন্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আপত্তির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সরকারি কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বন্ডের আকার, শর্ত ও ইস্যুর সময় নির্ধারণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে ডলার বন্ড ইস্যু করা সম্ভব হলে এটিই হবে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম ডলার বন্ড।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে