×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি আইন বনাম শরিয়ত: হেবা নিয়ে যে প্রশ্নে তৈরি হয়েছে বিতর্ক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৫:১৮:১০
সরকারি আইন বনাম শরিয়ত: হেবা নিয়ে যে প্রশ্নে তৈরি হয়েছে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী শরিয়তে সম্পত্তি বিনা মূল্যে অন্যের মালিকানায় হস্তান্তরকে ‘হেবা’ বা দান বলা হয়। পিতা-মাতা জীবিত অবস্থায় সন্তান বা নিকটাত্মীয়কে সম্পত্তি হেবা করে দেওয়ার বিষয়টি মুসলিম সমাজে প্রচলিত। তবে হেবা কার্যকর হওয়ার জন্য শুধু দলিল করে দেওয়াই যথেষ্ট নয়; দাতার প্রস্তাব, গ্রহীতার গ্রহণ এবং সম্পত্তির দখল হস্তান্তর—এসব বিষয় শরিয়তের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মুফতি সাইফুল ইসলাম।

ইসলামী ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, কোনো সম্পত্তি বৈধভাবে হেবা করার পর এর মালিকানা গ্রহীতার কাছে চলে যায়। বিশেষ করে বংশীয় মাহরাম আত্মীয়কে হেবা করার ক্ষেত্রে হেবা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই—এমন মত হানাফি ফিকহের বিভিন্ন প্রামাণ্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসের দলিলও উদ্ধৃত করা হয়েছে। লেখায় বাদায়েউস সানায়ি, হিদায়া এবং রদ্দুল মুহতারের মতো ফিকহের গ্রন্থের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি পিতা-মাতা ও রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে নতুন আইনি বিধানকে কেন্দ্র করে শরিয়তের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় পিতা-মাতা সন্তান বা রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তির কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় দলিলে জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তিতে বসবাস ও ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণের শর্ত যুক্ত করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দাতার সম্মতি ছাড়া গ্রহীতার সম্পত্তি বিক্রির ওপরও সীমাবদ্ধতা থাকবে।

মুফতি সাইফুল ইসলামের বিশ্লেষণে, এই আইনি ব্যবস্থার উদ্দেশ্য মূলত পিতা-মাতার নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা হলেও এর সঙ্গে শরিয়তের হেবা-নীতির একটি মৌলিক প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শরিয়তি হেবার ক্ষেত্রে দখল হস্তান্তরের পর গ্রহীতাই সম্পত্তির মালিক হন। ফলে হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর দাতার মালিকানা বা অধিকার কতটুকু থাকবে, তা নিয়ে শর্ত আরোপ করলে সেটি শরিয়তের প্রচলিত হেবা কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

তবে পিতা-মাতার ভরণপোষণ, সম্মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামে সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই কোনো সন্তান হেবা পাওয়ার পর মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া বা তাদের প্রতি দায়িত্বহীন আচরণ করা ইসলামী নৈতিকতার পরিপন্থী—এমন বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। লেখকের মতে, পিতা-মাতার অধিকার রক্ষার বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে; কিন্তু সে উদ্দেশ্যে হেবার মৌলিক শরয়ী কাঠামো পরিবর্তন করা উচিত নয়।

সার্বিকভাবে, বিতর্কটির মূল প্রশ্ন হলো—পিতা-মাতার জীবদ্দশায় তাদের বসবাস ও ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি হস্তান্তরের যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা ইসলামী শরিয়তের প্রচলিত হেবা বিধানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ বিষয়ে আইন এবং শরিয়তের বিধান—দুই দিক থেকেই বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আলেমরা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে