×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেয়াদি ফান্ড আর থাকছে না! রূপালী ব্যাংক নিয়ে নতুন উদ্যোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১২:৪৮:৩৪
মেয়াদি ফান্ড আর থাকছে না! রূপালী ব্যাংক নিয়ে নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডকে মেয়াদি থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদন দেওয়ার পর সম্পদ ব্যবস্থাপক ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের (ভিএএমএল) স্বেচ্ছাপ্রস্তাবের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রূপান্তরের আগে ইউনিটধারীদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএসের ভিআইপি রোডে রাওয়া কনভেনশন হলের ঈগল হলে এই বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ফান্ডটির মেয়াদি কাঠামো পরিবর্তন করে বে-মেয়াদি করার প্রস্তাব ইউনিটধারীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং তাদের অনুমোদন নেওয়া হবে।

এ জন্য ফান্ডটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ অক্টোবর ২০২৬। ওই দিন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন স্থগিত থাকবে। ফান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেকর্ড ডেটের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ইউনিটের লেনদেন বন্ধ থাকবে।

বিএসইসির আদেশ এবং ভিএএমএলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। ফান্ডটির ট্রাস্টি কমিটি ইউনিটধারীদের সম্মতি নেওয়ার জন্য এসজিএম ডেকেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফান্ডটির রূপান্তর ৭ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

মেয়াদি ফান্ডের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে এবং সাধারণত এর ইউনিট স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা করা হয়। ফলে বাজারে ফান্ডের ইউনিটের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে এর দাম ওঠানামা করতে পারে। অনেক সময় এই বাজারদর ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) থেকে বেশি বা কম হতে পারে।

অন্যদিকে, বে-মেয়াদি ফান্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না। নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে বিনিয়োগকারীরা ফান্ডের কাছ থেকে ইউনিট কিনতে পারেন এবং ফান্ডের কাছেই ইউনিট বিক্রি বা পুনঃক্রয়ের সুযোগ পেতে পারেন। ফলে রূপান্তরের পর ইউনিট কেনাবেচার কাঠামোতেও পরিবর্তন আসবে।

বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের পর স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি বাজারদরের ভিত্তিতে ইউনিট কেনাবেচার পরিবর্তে ফান্ডের নির্ধারিত মূল্য বা এনএভিকে কেন্দ্র করে ইউনিট ইস্যু ও পুনঃক্রয়ের ব্যবস্থা চালু হতে পারে। এর ফলে বাজারদর ও ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, তা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে রূপান্তর কার্যকর হওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা ঠিক কীভাবে ইউনিট বিক্রি বা পুনঃক্রয় করতে পারবেন, নতুন ইউনিট কীভাবে ইস্যু হবে এবং ইউনিটের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট নথি ও পরবর্তী নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হবে। তাই বর্তমান ইউনিটধারীদের এসজিএমের সিদ্ধান্ত এবং ফান্ড কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ডের কাঠামোগত এই পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য ইউনিট কেনাবেচার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে রূপান্তরের চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে এসজিএমের অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে বিএসইসি ও ফান্ড কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়মের ওপর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে