×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জানা গেলো  পাটোয়ারীর পৌনে ৩ কোটির প্রাডোর মালিকের পরিচয় 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১২:৪৩:০৬
জানা গেলো  পাটোয়ারীর পৌনে ৩ কোটির প্রাডোর মালিকের পরিচয় 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১১ দলীয় জোটের লং মার্চ কর্মসূচিতে একটি বিলাসবহুল টয়োটা প্রাডো গাড়িতে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী কর্মসূচিতে ব্যবহৃত গাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিতর্কের মূল কারণ হলো, পাটোয়ারীর নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই বলে দাবি করা হলেও এত দামি গাড়িতে তাকে কেন এবং কার গাড়িতে করে কর্মসূচিতে যেতে দেখা গেল—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান দাবি করেছেন, পাটোয়ারী আওয়ামী লীগের এক নেতার গাড়ি ব্যবহার করে লং মার্চে অংশ নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এটি আওয়ামী লীগের সম্পদ ব্যবহারের বা দখলের একটি উদাহরণ। অন্যদিকে অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ শাফায়াত দাবি করেন, গাড়িটি মাদারীপুর সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়ার। তুষার ভূঁইয়া আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে গাড়িটির মালিকানা ও তুষার ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তুষার ভূঁইয়া অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তবে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং দলটির সমর্থনে নির্বাচিত ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গাড়িটির মালিকানা ও মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে আরও ধোঁয়াশা।

এদিকে গাড়িটি কার—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী একটি ভিডিওতে রসিকতার ভঙ্গিতে বলেন, এটি ‘মানুষের গাড়ি’। গাড়ির মালিকের নাম প্রকাশ করলে সেটি ভেঙে ফেলা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরে নিজের ফেসবুক পেজে ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি পাল্টা অবস্থান নেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তুষার ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না।

গাড়ি বিতর্কের জবাবে এনসিপির নেতারাও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা সাবেক ব্যবসায়ী এস আলমের গাড়ি বিএনপির নেতারা ব্যবহার করেছেন কি না, সে বিষয়টি সামনে এনে রাজনৈতিক বিতর্ককে অন্যদিকে টেনে নেন।

এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু গাড়িটির দাম বা মালিকানা নিয়ে নয়; বরং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচিতে একজন আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট নেতার এমন বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের পেছনে কার সম্পৃক্ততা ছিল, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সম্পদ, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সম্পর্ক নিয়ে ইতোমধ্যে যে প্রশ্ন রয়েছে, এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

তবে গাড়িটির প্রকৃত মালিকানা, পাটোয়ারী কীভাবে গাড়িটি ব্যবহার করেছেন এবং গাড়ির মালিকের বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। তাই অভিযোগ ও দাবিগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার আগে নির্ভরযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে