×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট, এরপর যা ঘটল মেঘমল্লারের সঙ্গে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১১:১৬:৪৭
মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট, এরপর যা ঘটল মেঘমল্লারের সঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর কেন্দ্রীয় ও কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সুইসাইড নোটধর্মী পোস্ট প্রকাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, মেঘমল্লারের ফেসবুক পোস্ট দেখার পর তাঁরা তাঁর অবস্থান জানার চেষ্টা করেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকায় তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়।

পরে তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসায় অনীহা প্রকাশ করা হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন এবং পর্যবেক্ষণে রাখেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ফরহাদ জানান, মেঘমল্লার বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। তবে তখনও তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না।

এর আগে মেঘমল্লারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ পোস্টে তাঁর গভীর হতাশা ও অপরাধবোধের কথা উঠে আসে। সেখানে তিনি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের কথা স্মরণ করে নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর মধ্যে হতাশা ও অপরাধবোধ ছাড়া আর কিছু নেই। বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে করা ‘সবচেয়ে বড় অপরাধ’-এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রচেষ্টার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন মেঘমল্লার। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কয়েকজনের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তাঁদের হতাশ করছেন—এমন অনুভূতির কথাও তিনি লিখেছেন।

সবশেষে তাঁর মায়ের খেয়াল রাখার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আবেগঘন আবেদন জানান তিনি।

মেঘমল্লারকে উদ্ধারের পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা দেওয়ার ফলে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। তাঁকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য অনেকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর প্রকাশিত পোস্ট ঘিরে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও হতাশার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে তাঁর পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে